৪১৩৩ নয়, ছাত্রশূন্য স্কুল আসলে ৯০০! বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী

রাজ্যে হাজার হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জনে তোলপাড় শুরু হয়েছিল শিক্ষামহলে। জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, রাজ্য সরকার বিপুল সংখ্যক স্কুল বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৪১৩৩টি স্কুল নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের মধ্যে এবার স্পষ্ট অবস্থান জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
৪১৩৩ নয়, ছাত্রশূন্য সরকারি স্কুল ৯০০! শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ৪১৩৩ সংখ্যাটি বিভ্রান্তিকর। নথিপত্রে তথ্য পূরণের ভুলের কারণে এই তালিকায় বেশ কিছু বেসরকারি স্কুলের নাম ঢুকে পড়েছিল। প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘ দিন ধরে পড়ুয়াহীন এবং শিক্ষকহীন হয়ে পড়া সরকারি স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৯০০। এই স্কুলগুলির অনেকেই বিগত ৬ থেকে ২০ বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
কী হবে অকেজো স্কুল ভবনগুলির ভবিষ্যৎ? বছরের পর বছর পরিত্যাক্ত অবস্থায় ফেলে না রেখে স্কুল ভবনগুলিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে জেলাশাসকদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গড়া হয়েছে।
- প্রথম অগ্রাধিকার: বন্ধ থাকা স্কুলগুলিকে ফের চালু করার মতো পরিস্থিতি বা সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি আগে বিচার করা হবে।
- বিকল্প ব্যবহার: পুনরায় চালু করা সম্ভব না হলে, ভবনগুলিকে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য প্রশাসনিক বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।
- PPP মডেল: কিছু ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP মডেলে পরিকাঠামো ব্যবহার করার ভাবনাও রয়েছে।
জেলা কমিটিগুলির জমা দেওয়া বিস্তারিত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষা দফতর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, চালু কোনো স্কুল বন্ধ করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকা ভবনের সঠিক সদ্ব্যবহার করতেই এই প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ।