‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে শাস্তি নয়! কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে শাস্তি নয়! কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

নয়াদিল্লি: ব্যক্তিগত বিবেক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ যদি জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ না গান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক বা ফৌজদারি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। কর্ণাটকী সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণার দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার স্পষ্ট ভাষায় এই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। শুনানিপর্বে আদালত জানায়, গণতান্ত্রিক সরকার জাতীয় গানের রূপরেখা বা নিয়ম ঠিক করতেই পারে। তবে সংবিধানের ২৫ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিককে যে ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্র তা কোনওভাবেই খর্ব করতে পারে না।

মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল বিতর্ক: ২০২৬ সালের ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী আইন’-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।

  • এই নতুন আইনে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর মতো ‘বন্দে মাতরম’-কেও আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয় এবং বাধা দিলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
  • পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করে সরকারি অনুষ্ঠানে আগের দুটি স্তবকের বদলে ‘বন্দে মাতরম’-এর পুরো ৬টি স্তবক গাওয়াই বাধ্যতামূলক করে।
  • আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এস মুরলীধর আদালতে জানান, ‘বন্দে মাতরম’-এর শেষ চারটি স্তবকে স্পষ্ট হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব স্তবক গাইতে বাধ্য করা এবং না গাইলে শাস্তির ভয় দেখানো নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী।

ঐতিহাসিক রায়ের স্মরণ করাল আদালত: শুনানি চলাকালীন ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘বিজয়ে ইমানুয়েল’ মামলার কথা মনে করিয়ে দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ যদি জাতীয় সংগীতে গলা না মিলিয়ে কেবল শ্রদ্ধার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

আদালত কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেয় যে, এই আইনি নজির আজও অটুট এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য থাকবে। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার উদ্দেশে শীর্ষ আদালত সাফ জানায়—রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে গানটির কতটা গাওয়া হবে, কিন্তু বিবেকের কারণে কেউ তা না গাইলে জোর করে শাস্তির খাঁড়া ঝুলিয়ে দেওয়া যাবে না। এই বিষয়ে কেন্দ্রকে তাদের স্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *