উত্তাল গঙ্গাসাগরে সাইক্লোন আতঙ্ক! সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা, হাই অ্যালার্ট জারি

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতেই উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। সবচেয়ে উদ্বেগের ছবি গঙ্গাসাগরে। সমুদ্রের রুদ্ররূপ ও বিকট গর্জনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে পুণ্যার্থী, পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
সমুদ্রে নামায় কড়া নিষেধাজ্ঞা গঙ্গাসাগরের সমুদ্র সৈকত, স্নানের ঘাট থেকে শুরু করে বিখ্যাত কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকেই মাইকিং করছেন সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের কর্মীরা। উপকূল সংলগ্ন এলাকায় টানা প্রচার চালিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে—উত্তাল সমুদ্রে কোনোভাবেই নামা যাবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জল থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাঝসমুদ্র থেকে মৎস্যজীবীদের ফেরার নির্দেশ শুধু পর্যটক বা পুণ্যার্থী নন, মৎস্যজীবীদের নিয়েও সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঝসমুদ্রে থাকা সমস্ত ট্রলার ও নৌকাকে অবিলম্বে তীরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার ওপর জারি করা হয়েছে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা।
ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস যদিও এই ঘূর্ণিঝড়ের মূল অভিমুখ ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে, তবুও দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যার ফলে সমুদ্র আরও উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিচু এলাকা খালি করার আর্জি সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকায় জল ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাগর দ্বীপের কাঁচা বাড়িতে থাকা বাসিন্দাদের আগাম নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে।
প্রশাসনের একটাই বার্তা—প্রকৃতির এই দুর্যোগের সময়ে কোনোভাবেই ঝুঁকি নেবেন না, ঘরে থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন।