সরকারি হাসপাতাল থেকেই ‘গায়েব’ কেন্দ্রীয় কোটি টাকার সরঞ্জাম! কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য ভবনের

কলকাতা: সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো বদলে দিতে পঞ্চাদশ অর্থ কমিশনের তরফ থেকে বিপুল অর্থ অনুদান পেয়েছিল রাজ্য। সেই টাকায় কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়েই সাজিয়ে তোলা হচ্ছিল স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে। কিন্তু সুবিধার বদলে এখন সেখানে ঝুলছে শূন্যতা! হাসপাতাল ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে দেদার চুরি হয়ে যাচ্ছে কম্পিউটার, ব্যাটারি, ওয়্যার বক্সসহ একাধিক মূল্যবান আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম।
রাজ্যে এই প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ ছিল প্রায় ৮২৯ কোটি টাকা। সেই টাকার কেনা জিনিসপত্র ‘গায়েব’ হওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য ভবন।
কোথায় কোথায় চুরি?
স্বাস্থ্য ভবন থেকে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় দেখা যাচ্ছে, এ পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ৬৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সরঞ্জাম উধাও হওয়ার রিপোর্ট মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- ৫০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র
- ১৩টি ব্লক প্রাথমিক হেল্থ ইউনিট (BPHU)
- ১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র
বাঁকুড়া, হাওড়া, কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, উত্তর দিনাজপুর, বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলা এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য ভবনের কড়া নির্দেশিকা:
সরঞ্জাম উধাওয়ের ঘটনায় জেলা প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে:
- থানায় এফআইআর (FIR): চুরি যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া সরঞ্জামের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে হবে।
- রিপোর্ট তলব: দায়ের করা এফআইআরের কপি এবং বিস্তারিত রিপোর্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের মাধ্যমে সরাসরি স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠাতে হবে।
- বেতন কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত: যন্ত্রপাতি হেফাজতে রাখার দায়িত্ব যে চিকিৎসক, নার্স বা আধিকারিকের ছিল—তদন্তে তাঁদের গাফিলতি বা ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি, খোয়া যাওয়া সরঞ্জামের পুরো অর্থ তাঁদের বেতন থেকেই কেটে নেওয়া হবে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় স্বাস্থ্য ভবনের এই জিরো-টলারেন্স নীতিতে বর্তমানে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য মহলে।