গ্লোবাল ট্যাক্স নীতিতে বড় বার্তা সীতারামনের, ব্রিকস দেশগুলিকে একজোট হওয়ার আহ্বান

গ্লোবাল ট্যাক্স নীতিতে বড় বার্তা সীতারামনের, ব্রিকস দেশগুলিকে একজোট হওয়ার আহ্বান

নয়াদিল্লি: আগামী প্রজন্মের জন্য আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থা কেমন হবে, তার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে এখনই। আর এই প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ রক্ষায় ব্রিকস (BRICS) রাষ্ট্রগুলির সক্রিয় উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘ব্রিকস ট্যাক্স হেডস মিটিং’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে বর্তমানে আন্তর্জাতিক কর নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক বছরে এসব আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তই এক প্রজন্মের জন্য আন্তঃসীমান্ত (Cross-border) কর ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে।

ব্রিকস দেশগুলির মতামত কেন অপরিহার্য?

নির্মলা সীতারামন বলেন, ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং আয়ের বড় উৎস। তারা শূন্য থেকে নিজেদের দেশে মজবুত কর পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। তাই বিশ্বজুড়ে একটি সুষ্ঠু, ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী কর নীতি তৈরি করতে এই দেশগুলির অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর প্রশাসনে প্রযুক্তি ও এআই-এর ব্যবহার

ভারতের কর প্রশাসনে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের কথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কমেছে এবং পুরো ব্যবস্থা আরও নিখুঁত হয়েছে। ভারতে সফলভাবে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রযুক্তি:

  • ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট: স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও ব্যক্তিগত হয়রানি কমানো।
  • অটোমেটেড রিটার্ন: আগে থেকে পূরণ করা (Pre-filled) সহজ ট্যাক্স রিটার্ন সুবিধা।
  • এআই ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সহায়তা এবং রিয়েল-টাইম ইনভয়েস যাচাইকরণ।

দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা

ভারতের সভাপতিত্ব শেষ হলেও যাতে এই যৌথ কাজ অব্যাহত থাকে, তার জন্য ‘ব্রিকস ট্যাক্স কোলাবোরেশন টুল’, ‘ট্যাক্স নলেজ হাব’ এবং ‘ক্রস-লার্নিং ল্যাব’-এর মতো কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর ও ট্রান্সফার প্রাইসিং সংক্রান্ত সাধারণ সমস্যাগুলো মেটাতে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ।

অনুষ্ঠানে রাজস্ব সচিব অরবিন্দ শ্রীবাস্তব উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক কর আলোচনায় বিশ্বমঞ্চে ব্রিকস দেশগুলির যৌথ ও জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। প্রস্তাবিত নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপটি সদস্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ে একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *