“ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়ে মুখ খোলাবেন না!” ডিজিটাল গ্রেফতারি মামলায় কড়া অবস্থান হাইকোর্টের

ডিজিটাল গ্রেফতারির নামে এক বৃদ্ধের প্রায় ২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা জালিয়াতির মামলায় এবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৪ সালে নরেন্দ্রপুর থানায় দায়ের করা এই মামলায় রাজ্য পুলিশ তদন্তে বিশেষ কোনও অগ্রগতি দেখাতে না পারায় বিচারপ্রক্রিয়া শেষে তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আগামী সাতদিনের মধ্যে কেস ডায়েরি সহ সমস্ত নথি সিবিআই-এর হাতে তুলে দিতে হবে নরেন্দ্রপুর থানাকে।
সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর এক স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় দেশজুড়ে সমস্ত ডিজিটাল গ্রেফতারি ও তোলাবাজির ঘটনা সিবিআই-কে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের সেই রায়কে পাথেয় করেই এই পদক্ষেপ করল হাইকোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, সারা দেশেই এই ধরনের সাইবার অপরাধের মামলাগুলি সিবিআই-এর কাছে পাঠানো হচ্ছে, তাই নরেন্দ্রপুরের মামলাটির ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তই যুক্তিযুক্ত।
এদিকে শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের আইনজীবী সিবিআই তদন্ত নিয়ে আপত্তি জানানোর চেষ্টা করতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যাঙ্ক কেন এখনও গ্রিভান্স রিড্রেসাল পোর্টাল তৈরি করেনি? ব্যাঙ্কের আইনজীবীকে থামিয়ে দিয়ে বিচারপতির মন্তব্য, “ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়ে আমাকে মুখ খোলাবেন না। এবার গিয়ে সিবিআইয়ের কাছে জবাব দিন।” গ্রাহক সুরক্ষার পোর্টাল না থাকলে সিবিআই তদন্তে ব্যাঙ্কের কোনওরকম অজুহাত শুনতে নারাজ আদালত।