৩১ কোটির নিষিদ্ধ কাফ সিরাপে বুলডোজার! ‘নেশামুক্ত বাংলা’ গড়ার হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত (Drug Free State) করতে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ইকো পার্কে প্রকাশ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ১০ হাজার বেআইনি ও নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের বোতল বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি টাকা।
মাদক দমনে কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে নিজে পে-লোডার চালিয়ে এই মাদক ধ্বংস করেন মুখ্যমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাজ্য থেকে মাদক ও নিষিদ্ধ কফ সিরাপ পাচার রুখতে বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং এসটিএফ (STF) যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি, মাদক মামলার দ্রুত তদন্ত, চার্জশিট পেশ ও সাজা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ অনুমোদন মিলেছে, যার ফলে তদন্তকারী আধিকারিকরা এখন আরও স্বাধীনভাবে ও হাত খুলে পদক্ষেপ করতে পারবেন।
হরিরামপুরের চক্র ও সংস্থার লিখিত প্রতিশ্রুতি প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের একটি অবৈধ কাফ সিরাপ চক্রের তথ্য সামনে আসে। পুলিশের ধারাবাহিক চাপের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘Laborate Pharmaceuticals India Ltd.’ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা এই রাজ্যে আর কোনও নিষিদ্ধ বা বেআইনি কফ সিরাপের ব্যবসা পরিচালনা করবে না। ইতিমধ্যেই স্থানীয় ডিপোয় মজুত সমস্ত ‘Eskuf Cough Syrup’ ফিরিয়ে নেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এর আগে দক্ষিণ দিনাজপুরে পুলিশের তৎপরতায় প্রায় ২ লক্ষ বোতল কোডিনযুক্ত অবৈধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করা হয়েছিল।
সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নয়, প্রতিবেশী রাজ্য কিংবা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনও অবৈধ কফ সিরাপ বা মাদক রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের মরণফাঁদ থেকে রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।