১৬ লাখ ভোটারের নাম ছাঁটতে কার নির্দেশ? নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই বিস্ফোরক সান্ধু!

১৬ লাখ ভোটারের নাম ছাঁটতে কার নির্দেশ? নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই বিস্ফোরক সান্ধু!

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে এবার খোদ নির্বাচন কমিশনের (ECI) অন্দরেই নজিরবিহীন তোলপাড়! বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের অনুমোদনে ভোটার তালিকায় নাম পাওয়া ১৬.১০ লক্ষ মানুষের নাম ফের বাদ দেওয়ার আবেদন কে বা কার নির্দেশে করেছিল? এই প্রশ্ন তুলে পুরো কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের এই নজিরবিহীন টানাপোড়েনের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

কমিশনের ভেতরেই সান্ধুর দুই কড়া প্রশ্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অগস্ট মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু কমিশনের আধিকারিকদের লিখিতভাবে দুটি প্রশ্ন পাঠান:

  • নির্বাচন কমিশনের (ECI) হয়ে এই ১৬ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার আপিল দায়ের করার নির্দেশ কে দিয়েছিল?
  • নির্বাচন কমিশনের নাম ব্যবহার করে আসলে কে বা কারা এই আপিলগুলো দায়ের করেছিল?

গোপন আপিল ও রহস্যময় ‘লগইন’ সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই বিপুল সংখ্যক আপিল দায়ের করার সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু, অপর কমিশনার বিবেক জোশী কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)—কারোই কিছু জানা ছিল না!

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের এই ১৬ লক্ষের বেশি আপিল নিঃশব্দে এক বিশেষ আধিকারিকের ‘লগইন আইডি’ (Login ID) ব্যবহার করে দায়ের করা হয়েছিল, যার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা কমিশন দিতে পারেনি।

এক নজরে মামলার পরিসংখ্যান:

  • ২৭.১৬ লাখ: SIR প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের মোট এতজন ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল।
  • ২২.২১ লাখ: বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৮২% মানুষ নিজেদের নাম ফেরাতে আপিল করেন।
  • ১৬.১০ লাখ: বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যাদের নাম তালিকায় বহাল রেখেছিলেন, উল্টে তাঁদের নাম বাদ দিতে কমিশনের পক্ষ থেকেই আপিল করা হয়!
  • ৩৮ লাখ+: সব মিলিয়ে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনালে মোট আপিলের সংখ্যা ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে।

রাজনৈতিক দল নয়, প্রশ্ন তুললেন কমিশনার নিজেই স্বাভাবিকভাবে এই বিতর্ক অন্য মাত্র পেয়েছে কারণ এবার কোনো বিরোধী বা শাসক রাজনৈতিক দল নয়, কমিশনের অন্দরের এই গোপন পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন খোদ তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অন্যতম কমিশনার সান্ধু। ফলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হলেও, প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কমিশনের তরফ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *