‘অমিত শাহের মদতেই ভোটিং লিস্ট থেকে নাম ছাঁটাই!’ SIR নিয়ে সোজা তোপ মহুয়ার

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্কিত ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিস্ফোরক কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। চাপড়ার মহেশনগরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়ালেন তিনি।
‘ভোটার হঠাও’ অভিযানের অভিযোগ মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদতেই নির্বাচন কমিশন ‘এসআইআর’-এর বাহানায় পরিকল্পিতভাবে দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। দিল্লির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবیند কেজরিওয়াল, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের স্বজনদের নামও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দিল্লিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের নাম ছাঁটাই করে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটারকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের ছবি ও ট্রাইব্যুনালের ধীরগতি বাংলার প্রসঙ্গে সাংসদ দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে ২৭ লক্ষ বৈধ ভোটারকে বাদ রেখে ভোট করানো হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ৩১ লক্ষ মানু্ষ ট্রাইব্যুনালে চক্কর কাটছেন। মহুয়ার অভিযোগ, “যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে ১২ বছরেও এর সমাধান হবে না। অথচ দেখা যাচ্ছে ট্রাইব্যুনালে যাওয়া মানু্ষের মধ্যে ৯৫ শতাংশই বৈধ ভারতীয় নাগরিক, কোনো রোহিঙ্গা বা পাকিস্তানি নন।”
পুরভোট বয়কটের সুর ও হুঁশিয়ারি হাওড়া ও কলকাতার আসন্ন পুরভোট প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে মহুয়া জানান, আগামী ১-২ মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের জট কাটিয়ে এই লক্ষাধিক বৈধ ভোটারকে তালিকায় ফেরাতে হবে। তা না হলে এই নির্বাচন কোনোভাবেই নিরপেক্ষ বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
গদ্দারদের বার্তা ও ‘শূন্য থেকে শুরু’ করার হুংকার নাম না করে চাপড়ার দলত্যাগী বিধায়ক জেবের শেখকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মহুয়া। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে জিতে যারা রাতারাতি গদ্দারি করেছে, তারা নিজেদের বাঁচাতে আজ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর কোনোদিন পাবে না।”
নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতি উস্কে দিয়ে তিনি বলেন, “দরকার হলে আমরা শূন্য থেকেই ফের লড়াই শুরু করব। ২০০৮ সালে যখন চাপড়ায় প্রথম প্রচারে আসি, তখন ৩টে ছাগল আর দুটো মানুষ নিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ আবার দুটো ছাগল ও ১০টা লোক নিয়ে নদীয়ার প্রতিটি অঞ্চলে সভা করব, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।”