কুসংস্কারের বলি! সাপের ছোবলের পর হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে চরম ভুল, মর্মান্তিক পরিণতি

কুসংস্কারের বলি! সাপের ছোবলের পর হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে চরম ভুল, মর্মান্তিক পরিণতি

হাবড়া: বিজ্ঞান আর আধুনিক চিকিৎসার যুগে দাঁড়িয়েও কুসংস্কারের বলি হতে হলো আট বছরের এক একরত্তিকে। সাপে কাটার পর পরিবারের চরম গাফিলতি ও সচেতনতার অভাবে প্রাণ গেল হাবড়ার মারাকপুরের বাসিন্দা সাথী সিংয়ের।

ঘটনার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুম ভেঙে আচমকাই প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করে সাথী। পরিবারকে সে জানায় যে তাকে সাপে কেটেছে। যদিও শরীরে স্পষ্ট কোনো ক্ষতচিহ্ন ছিল না বা পরিবারের কেউ সাপটিকে প্রত্যক্ষ করেনি, তবুও আতঙ্কিত পরিবার কোনো সময় নষ্ট না করে শুরুতেই দৌড়ায় এক স্থানীয় ওঝার কাছে।

অবাক করার বিষয় হলো, ঝাড়ফুঁকের প্রাথমিক চেষ্টার পরই ওঝা নিজে পরিবারকে পরামর্শ দেন শিশুটিকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে। এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য গাড়ি পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। কিন্তু পরিবারের অন্ধবিশ্বাস এতটাই বেশি ছিল যে, ওঝার কথা উপেক্ষা করে তারা শিশুটিকে নিয়ে ছুটে যায় পাড়ার এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই হাতুড়ে চিকিৎসক সাপে কাটার সঠিক চিকিৎসা না করে শিশুটিকে অক্সিজেন দেন এবং কিছু ভুল ওষুধ লিখে দেন। ততক্ষণে ছোট্ট সাথীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি হাতছাড়া বুঝে রবিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ তাকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সামান্য সচেতনতা দেখালে এবং সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো বেঁচে যেত আট বছরের সাথীর প্রাণ। চিকিৎসায় বিলম্বের কারণে একরত্তির এমন করুণ পরিণতি স্থানীয়দের মনে উসকে দিচ্ছে একাধিক প্রশ্ন— সমাজ ও বিজ্ঞান যতটাই এগোক না কেন, কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে আমরা কি আদৌ বেরোতে পেরেছি? সোমবার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বারাসাত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে, যার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *