‘প্রেমপত্র আদান-প্রদান হয়নি!’ মমতার সাথে ফোন-বিতর্কে কড়া জবাব দিলেন সেলিম-সুজন

‘প্রেমপত্র আদান-প্রদান হয়নি!’ মমতার সাথে ফোন-বিতর্কে কড়া জবাব দিলেন সেলিম-সুজন

কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে দুই মেরুর চিরাচরিত সংঘাত থাকলেও, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির ফোনালাপকে কেন্দ্র করে এক নতুন সমীকরণের চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তৃণমূলের সঙ্গে কি তবে সিপিএমের কোনো জোট হতে চলেছে? এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলেন সুজন চক্রবর্তী ও মহম্মদ সেলিম।

সিপিআইএম নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য ও দেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং SIR-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করতেই বিজেপি-বিরোধী দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। বিষয়টিকে নির্বাচনী জোট হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

‘কেউ ভাবছেই না’: স্পষ্ট বার্তা সুজনের এ বিষয়ে সুজন চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের জোট নিয়ে দলের কেউ ভাবছেই না। আর কেউ যদি তেমন ভেবে থাকেন, তবে তিনি ভুল ভাবছেন। এরকম হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

‘প্রেমপত্র আদান-প্রদান হয়নি’, বিস্ফোরক সেলিম অন্যদিকে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জল্পনা উড়িয়ে বলেন, “কোনো প্রেমপত্র আদান-প্রদান হয়নি। নির্বাচন ও সাংবিধানিক কাঠামো বাঁচাতে বৃহত্তর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই নিরিখেই বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করে উৎসাহ দেখিয়েছেন এবং আন্দোলনের পাশে থাকার কথা বলেছেন। কিন্তু আন্দোলন আর ভোট এক জিনিস নয়। একসঙ্গে চলা বা ভোটের জল্পনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।”

মমতার প্রতিক্রিয়া: বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে তিনি জানান, “কে লাল বা কে নীল—এখন তা দেখার সময় নয়। বিজেপি-বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই এই মুহূর্তের মূল লক্ষ্য।”

তৃণমূল ও বামেদের এই ইস্যুভিত্তিক পারস্পরিক সমঝোতা ভোটের ময়দানে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *