স্কুলের পোশাকের রং আর চাপিয়ে দেওয়া নয়! ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল ও স্মার্ট স্কুল নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

স্কুলের পোশাকের রং আর চাপিয়ে দেওয়া নয়! ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল ও স্মার্ট স্কুল নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

হাওড়া: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিকাঠামোয় এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো। এখন থেকে স্কুলের ইউনিফর্মের রং কী হবে, তা সরকারের বদলে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেই ঠিক করবে। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার একটি শতাব্দী প্রাচীন স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে এই ঐতিহাসিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, পোশাকের রঙের সিদ্ধান্ত স্কুলের হলেও, রাজ্য সরকার পোশাকের গুণগত মান বাড়ানোর কাজে নজর দেবে।

‘সবুজসাথী’ বদলে এবার ‘সারথি’: রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার পুরানো প্রকল্পটির রূপ বদলে নাম রাখা হয়েছে ‘সারথি’। নতুন লোগোর পাশাপাশি নতুনরূপে এই প্রকল্পের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাইকেলের গুণমান যাচাইয়ের জন্য ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। খারাপ রাস্তায় যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য টেকসই ও মজবুত টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে এবং সড়ক নিরাপত্তার দিকটিকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বাংলাতেই তৈরি হবে সাইকেল কারখানা: ‘ভোকাল ফর লোকাল’ বা স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকার এক বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যে সব সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে এই সারথি সাইকেল তৈরির কারখানা স্থাপন করতে চাইবে, সরকার তাদের সরাসরি জমি দেবে এবং তাদের থেকেই তৈরি সাইকেল কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করবে।

শিক্ষায় মেগা মাস্টারস্ট্রোক ও নতুন সুবিধা: শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পড়ুয়াদের সুবিধার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে:

  • ৮০০ স্মার্ট স্কুল: চলন্ত শিক্ষাবর্ষেই রাজ্যে ৮০০টি স্মার্ট স্কুল চালু করা হবে। এর মধ্যে ৬০০টির অনুমোদন ইতিমধ্যে শেষ, বাকি ২০০টির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই বিদ্যালয়গুলিতে আধুনিক ভবন, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি এবং উন্নত খেলার মাঠের বন্দোবস্ত থাকবে।
  • অষ্টম শ্রেণি থেকেই সাইকেল: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১২.৫৯ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পরিবর্তে অষ্টম শ্রেণি থেকেই ‘সারথি’ প্রকল্পের সাইকেল দেওয়া শুরু হবে।
  • কন্যারত্ন স্কলারশিপ দ্বিগুণ: ছাত্রীদের উৎসাহ দিতে ২০২৭ সাল থেকে ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের বার্ষিক অনুদান ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা (দ্বিগুণ) করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের ৮,২২৮টি বিদ্যালয়, ৩৩৪টি ব্লক এবং ১২৫টি পুরসভা ও কর্পোরেশন এলাকাকে এই মেগা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *