বাংলাজুড়ে NIA-র মেগা অভিযান! জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম সহ ৪
কলকাতা: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন-বাংলাদেশ (JMB) এবং ‘ইমাম মহমুদার কাফিলা’ (IMK) মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে রাজ্যজুড়ে জোরকদম অভিযান চালাল এনআইএ (NIA)। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজ্যের একাধিক জেলায় তল্লাশি চালিয়ে এক মসজিদের ইমাম সহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা।
কোথা থেকে কারা গ্রেপ্তার? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে ধৃত চারজনের পরিচয় জানা গিয়েছে:
- শেখ পিয়ার রহমান: পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থেকে ধৃত (পেশায় মসজিদের ইমাম)।
- সাহারুল হক পুরকাইত: দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
- মহম্মদ জুম্মান হোসেন: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ।
- আব্দুর রফিক: দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
মঙ্গলকোটে কী ঘটেছে? মঙ্গলবার ভোরে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে অভিযান চালায় NIA। সেখানকার ইমাম শেখ পিয়ার রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ তাঁকে মঙ্গলকোট থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয়। পিয়ারের মূল বাড়ি মন্তেশ্বরের কুলুট গ্রামে হলেও গত ৩-৪ বছর ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতি করছিলেন। এনআইএ-র দাবি, তাঁর পাসপোর্ট ঘেঁটে দেখা গিয়েছে তিনি বাংলাদেশে গিয়ে প্রায় ৪০ দিন অবস্থান করেছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠন JMB-র সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ধড়পাকড়: গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বজবজের মিঠাপুকুর ও বলরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে জুম্মান হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুন্দরবন পুলিশ জেলা এলাকা থেকে সাহারুল হক পুরকাইতকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে আব্দুর রফিক নামে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী দল। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরেও এনআইএ-র বিশেষ টিম অভিযান চালিয়েছে।
তদন্তে নজর এনআইএ-র: ধৃতদের সঙ্গে ‘ইমাম মহমুদার কাফিলা’ (IMK) মডিউলের আন্তর্জাতিক জঙ্গিযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে চান গোয়েন্দারা। বাংলায় কোনো বড়সড় স্লিপার সেল বা গোপন নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে তা জানার চেষ্টা করছে NIA।