নীরব মোদি কাণ্ডে বড় সাফল্য! UAE থেকে ফাঁদ পেতে সন্দীপকে দেশে ফেরাল CBI

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) জালিয়াতি মামলায় পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির অন্যতম সহযোগী সন্দীপ মিস্ত্রিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতে ফিরিয়ে আনল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রকের নিবিড় সমন্বয় এবং ইন্টারপোলের সক্রিয় সহায়তায় এই বড় কূটনৈতিক ও তদন্তগত সাফল্য মিলল।
কে এই সন্দীপ মিস্ত্রি? ঠিক কী ভূমিকা ছিল তার?
মুম্বইয়ে সিবিআই-এর ‘ব্যাঙ্ক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফ্রড ব্রাঞ্চ’ (BSFB)-এর তদন্ত অনুযায়ী, নীরব মোদির মেগা স্ক্যামের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সন্দীপের।
- ভুয়ো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: সোনা, হিরে ও মুক্তোর গয়না আমদানি-রপ্তানির কাল্পনিক ছবি দাঁড় করিয়ে কোটি কোটি টাকার জাল নথি তৈরি করতেন তিনি।
- প্রমাণ লোপাটের ছক: অপরাধের ছাপ মুছতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় (auto-delete), এমন এনক্রিপ্টেড চ্যাট অ্যাপ ব্যবহার করে সহযোগীদের নির্দেশ দিতেন।
- ডামি ডিরেক্টরদের ওপর নির্যাতন: সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে একাধিক ভুয়ো সংস্থা খুলে নামমাত্র বা ‘ডামি’ পরিচালক বসাতেন। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করে ও আটকে রেখে জোরপূর্বক জাল নথিতে সই করানো হতো। এরপর ওই সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা সরিয়ে ফেলা হতো।
ইন্টারপোলের রেড নোটিস ও সিবিআইয়ের চাল
বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের পর থেকে দুবাইয়ে আত্মগোপন করেছিলেন সন্দীপ। সিবিআই-এর আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়।
রেড নোটিস জারির পরেই ইউএই (UAE) প্রশাসন সন্দীপের অবস্থান চিহ্নিত করে তাঁকে আটক করে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেড নোটিস জারির মাত্র দু’মাসের মধ্যে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো, যা সিবিআই-এর অন্যতম দ্রুত ও সফল প্রত্যাবাসন অভিযান। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।