করাচির ‘হোয়াইট হাউস’ ফাঁকা! এফএটিএফ ও অজ্ঞাত ঘাতকের আতঙ্কে গোপন ডেরায় দাউদ?

করাচির ‘হোয়াইট হাউস’ ফাঁকা! এফএটিএফ ও অজ্ঞাত ঘাতকের আতঙ্কে গোপন ডেরায় দাউদ?

পাকিস্তানের করাচির অভিজাত ক্লিফটন এলাকার বহুল চর্চিত ‘সাদা বাড়ি’ (হোয়াইট হাউস) এখন খাঁ খাঁ করছে। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমকে সেখান থেকে সরিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে করাচি পোর্ট এলাকার এক চরম গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই পুরো অপারেশনের মূলে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।

কেন হঠাৎ আস্তানা বদল? গোয়েন্দাদের দাবি, দুটি মূল কারণে আইএসআই অত্যন্ত তড়িঘড়ি দাউদকে নিরাপদ ডেরায় পাঠিয়েছে:

  • মাদক সিন্ডিকেট বাঁচানো: দাউদের বিশ্বব্যাপী ছড়ানো ড্রাগস নেটওয়ার্কের টাকায় পুষ্ট হয় লস্কর-ই-তৈবা ও জৈশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি। পাকিস্তানে তীব্র আর্থিক সংকট চলায় সরকারি ফান্ডিং বন্ধ, ফলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে দাউদের মাদকের টাকাই এখন আইএসআই-এর শেষ সম্বল।
  • এফএটিএফ-এর নজরদারি: আগামী অক্টোবরে ফিনানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (FATF) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ সাহায্য জঙ্গি কাজে ব্যবহারের অভিযোগে পাকিস্তান এমনিতেই চরম স্ক্যানারে। তাই দাউদের উপস্থিতি সম্পূর্ণ আড়াল করতে মরিয়া ইসলামাবাদ।

অজ্ঞাত ঘাতক ও নিরাপত্তার চিন্তা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই পাকিস্তানে একের পর এক জঙ্গি কমান্ডার অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে নিকেশ হচ্ছে। এই অবস্থায় পাক মাটিতে দাউদ আক্রান্ত বা নিহত হলে বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানের মিথ্যাচার ফাঁস হয়ে যাবে।

তবে দাউদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে করাচির বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পোর্ট সংলগ্ন নতুন ডেরায় এমনভাবে রাখা হয়েছে, যাতে বিপদের আঁচ পেলেই দ্রুত স্থানান্তর করা যায়।

ভেঙে পড়ছে ‘ডি-কো ম্পা নি’ ভারতে গত ২৪ এপ্রিল সেলিম ডোলা গ্রেপ্তার হওয়ার পর দাউদের পুরো নেটওয়ার্ক কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে। পাঞ্জাব সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। আনিস ইব্রাহিম বা ছোটা শাকিল সক্রিয় থাকলেও মূল কাণ্ডারী দাউদ নিজে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় পুরো গ্যাংয়ের মনোবল এখন তলানিতে।

উত্তরসূরি বাছা নিয়ে গৃহযুদ্ধ দাউদের অসুস্থতার সুযোগে ডি-কো ম্পা নির রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ছোটা শাকিল নিজেকে শীর্ষ পদে বসাতে চাল চালছে, অন্যদিকে দাউদের পরিবার চায় গদিতে বসুক তাঁর ভাই আনিস ইব্রাহিম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *