অচেনা শহরে দুর্ঘটনার রক্ষাকবচ QR Code! পরিবারকে খবর দেবে ‘এনসেফ’

অচেনা বা অজানা কোনও শহরে পথদুর্ঘটনা কিংবা হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা—এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে পরিবারকে খবর দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পরিচয় জানতে এবং পরিবারের নম্বর পেতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। এই মারাত্মক সমস্যার সমাধান নিয়ে আসছে প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন পরিষেবা ‘এনসেফ’ (Nsafe)।
একটি সাধারণ QR Code স্ক্যান করেই বিপদে পড়া ব্যক্তির পরিবারকে দ্রুত খবর পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর সর্বসাধারণের জন্য এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের কথা ঘোষণা করে প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘এনআরএনএসটি টেক প্রাইভেট লিমিটেড’ (NRNST Tech Pvt Ltd)।
কীভাবে কাজ করবে এই ‘এনসেফ’ প্রযুক্তি?
- বিশেষ কোনো ডিভাইসের প্রয়োজন নেই: ব্যবহারকারী একটি কিউআর কোড গাড়ির স্টিকার, হাতের ব্যান্ড কিংবা ওয়ালেটে রাখতে পারবেন।
- সহজ স্ক্যানিং: দুর্ঘটনায় উদ্ধারকারী, ট্র্যাফিক পুলিশ কিংবা সাধারণ পথচারী স্মার্টফোন দিয়ে কোডটি স্ক্যান করলেই একটি জরুরি ‘অ্যাকশন স্ক্রিন’ ফুটে উঠবে।
- সরাসরি কলিং সুবিধা: স্ক্রিনে থাকা বোতামে ক্লিক করলেই কো ম্পা নির সার্ভারের মাধ্যমে সরাসরি ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে ফোন চলে যাবে।
ব্যক্তিগত তথ্যের পূর্ণ সুরক্ষার নিশ্চয়তা
জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্যের পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তাকেও (Privacy) সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
- কোড স্ক্যান করলে ভুক্তভোগীর মোবাইল নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আসবে না।
- কেবল জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাটুকুই স্ক্রিনে দেখা যাবে।
কোথায় কোথায় কাজে আসবে?
শুধু পথদুর্ঘটনা নয়, মেলা বা জনসমাবেশে শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি হারিয়ে গেলে, কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়লেও এই ব্যবস্থা দারুণ কাজ দেবে। ভবিষ্যতে স্কুল-কলেজ এবং বড় প্রতিষ্ঠানেও এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কত খরচ পড়বে এই পরিষেবায়?
- বিনামূল্যে ব্যবহার: মূল কিউআর কোড এবং পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারী চাইলে অ্যাপ থেকে নিজের কিউআর কোড তৈরি করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।
- ইচ্ছাধীন সামগ্রী: কেউ যদি সংস্থার তৈরি বিশেষ কিউআর স্টিকার, হাতের ব্যান্ড বা ওয়ালেট অর্ডার করতে চান, তবেই কেবল প্রিন্টিং ও ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
সংস্থার সিইও অনীক মণ্ডল এবং ডিরেক্টর পবন রাই, ধনুষ হেগড়ে ও সুজিত কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে সারা দেশ জুড়েই এই পরিষেবা চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে বিদেশের বাজারেও ‘এনসেফ’ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।