দুর্গাপুজোর প্রি-পাসের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! ইডির স্ক্যানারে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

দুর্গাপুজোর প্রি-পাসের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! ইডির স্ক্যানারে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

কলকাতা: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ওপর চাপ বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরি (ED)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের প্রায় ১৫টি জায়গায় একযোগে অভিযানে নামে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে সমস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং নথি সহ প্রাক্তন মন্ত্রীকে ইডি দপ্তরে তলব করা হয়েছে।

কীভাবে চলত এই কারচুপি? ইডির তদন্তে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে মহানির্বাণ রোডের ‘মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে একটি সংস্থা, যা ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের মালিকানাধীন। ২০২১ সালে দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘অ্যামূল সংস্কৃতি ঐতিহ্য’ (Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি পাওয়ার পরেই নাকি চক্রান্তের সূত্রপাত। ইউনেস্কোর নাম ও অফিশিয়াল লোগো ব্যবহার করে সংস্থাটি ‘প্রি-পুজো ওয়াচ’, ‘ভিআইপি প্রিভিউ শো’ এবং বিশেষ প্যান্ডেল হপিংয়ের প্রলোভন দেখাত। চতুর্থীর আগেই ভিড় এড়িয়ে ঠাকুর দেখার নাম করে পাস ও প্রি-টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি মঙ্গলবার সকালেই ইডির একাধিক দল কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযানে নামে। ইন্দ্রনীল সেনের কসবা ও হাইল্যান্ড পার্কের বাসভবন, হিন্দুস্তান পার্কে তাঁর মেয়ের বাড়ি এবং সিঙ্গুরে তাঁর নিজস্ব বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এ ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি উক্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতেও হানা দেওয়া হয় এবং সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়ন্তন মিত্র সহ কয়েকজনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ইডির আতশিকাচে বয়ানের অসঙ্গতি তদন্তকারীরা জানান, প্রাক্তন মন্ত্রীকে সরাসরি বয়ান রেকর্ড করার জন্য ডাকা হয়েছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে। এই বিরাট টাকা কার নির্দেশে তোলা হয়েছিল এবং কোথায় সেই টাকা পাচার করা হয়েছে, তার শিকড়ে পৌঁছাতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা।

উল্লেখ্য, সল্টলেকের এক ট্যুর অপারেটর প্রথম এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। যদিও সেসময় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইডির এই ঝোড়ো পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *