২৭০০ টাকার ওষুধ ২৭ হাজারে! ক্যানসারের ওষুধের চড়া দাম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা

ক্যানসারের চিকিৎসায় আকাশছোঁয়া ওষুধের দাম ও মুনাফা লোটার প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট প্রশ্ন তোলে— যে ওষুধের উৎপাদন বা সরবরাহ মূল্য মাত্র ২,৭০০ টাকা, তার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) কীভাবে ২৭,০০০ টাকা হতে পারে? আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতালগুলির এই অতিরিক্ত লাভের মানসিকতা আদতে অসহায় সাধারণ রোগীদের ওপর চরম আর্থিক শোষণ।
১০ গুণ দাম ও ১৬% লাভের মার্জিন প্রস্তাব
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এই সংবেদনশীল মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির সময় জীবনদায়ী ওষুধের গায়ে ১০ গুণ দামের স্টিকার লাগিয়ে রোগীদের আর্থিক শোষণের বিষয়টি আদালতের কড়া নজরে আসে। আদালত জানায়, এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যবৃদ্ধির ফলে ক্যানসার আক্রান্তদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত প্রয়োজনীয় ওষুধের ওপর সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ লাভের মার্জিন নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে মতামত জানতে চায় বেঞ্চ।
হাসপাতালগুলির একচেটিয়া ব্যবসা ও রোগীদের দুর্ভোগ
ওষুধের দামের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির একচেটিয়া ব্যবসায়িক নীতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের শুধুমাত্র তাদের ইন-হাউস কেমিস্ট থেকেই চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।
সলিসিটর জেনারেল আদালতকে জানান, এই অতিরিক্ত লাভের পুরোটা ওষুধ কো ম্পা নি পায় না, বড় অংশ চলে যায় বেসরকারি হাসপাতালগুলির পকেটে। এর জবাবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, লাভ কার পকেটে গেল তা বড় কথা নয়; আসল বিষয় হল, ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষে মরছেন সাধারণ করদাতা ও রোগীরা। রোগীদের সামনে সস্তা বিকল্পের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার এই সংস্কৃতিকে প্রতিযোগিতাবিরোধী বলেও চিহ্নিত করেছে আদালত।
কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ
ড্রাগস (প্রাইসেস কন্ট্রোল) অর্ডার বা DPCO, 2013-এর অধীনে দায়ের হওয়া আবেদনের ওপর এই শুনানি চলছে। কেন্দ্রের তরফে আদালতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।