‘১৫ বছর অত্যাচার করেছেন!’ পার্টি অফিসে ঢুকে অনুব্রতকে হুমকি, সজোরে লাঠির মার টেবিলে

সিউড়ি: একসময়ে যাঁর দাপটে গোটা বীরভূমে ‘বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত’, সেই অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই পার্টি অফিসে চলল তাণ্ডব! শুধু ভাঙচুরই নয়, সোজা কলার ধরে বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে চরম হুমকি দিল মুখে কাপড় বাঁধা তিন যুবক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, চোখমুখে চরম আতঙ্ক নিয়ে হাতজোড় করতে দেখা যায় স্বয়ং ‘কেষ্ট’কে। বুধবার বিকেলে সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? বুধবার বিকেলে সিউড়ির পার্টি অফিসে কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। আচমকাই মুখে কাপড় বাঁধা তিন যুবক হাতে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় এলোপাথাড়ি ভাঙচুর। জানলার কাচ থেকে শুরু করে টেবিল-চেয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সজোরে লাঠির আঘাতে অনুব্রতের সামনের কাচের টেবিল ভেঙে খানখান হয়ে যায় এবং কাচের টুকরো ছিটকে এসে তাঁর চোখের কাছে লাগে।
এর পরই এক যুবক অনুব্রতের বুকে লাঠি ঠেকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে, “স্বীকার করুন, গত ১৫ বছর ধরে আপনি অত্যাচার করেছেন!” ‘সিউড়িতে যেন আর না দেখি’— এই বলে অনুব্রতের কলার চেপে ধরে শাসাতে থাকে তারা। অতর্কিত এই হামলায় কার্যত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বীরভূমের এই দাপুটে নেতা। হাতজোড় করে কাঁপা গলায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ঠিক আছে, এবার তোরা যা।”
পুলিশি পদক্ষেপ ও যুবকদের দাবি ঘটনার খবর পেয়েই সিউড়ি থানার পুলিশ গিয়ে হামলাকারী তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। ধৃত যুবকদের দাবি, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। দীর্ঘ ১৫ বছরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমজনতা হিসেবেই তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, হামলার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি অনুব্রত। কেবল বলেন, “আমাকে ভালোবাসলে চলে যান।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও নাটকীয় মোড় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চড়াপোড়েন শুরু হয়েছে। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই, এটি অনুব্রতের ওপর সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, দলেরই নেতা কাজল শেখ একে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নিজস্ব নিরাপত্তা ফিরিয়ে পেতেই অনুব্রত মণ্ডল নিজে এই হামলার চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। ভিডিওতে হামলা চলার সময় অনুব্রতকে হাসতে দেখা গিয়েছে বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সব মিলিয়ে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।