মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ টাকা! ইন্দ্রনীলকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডির চাঞ্চল্যকর দাবি

প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল—এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর এই চাঞ্চল্যকর দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। দুর্গাপুজো কেন্দ্রিক সংস্থা MassArt-এর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তে নেমে এই তথ্য সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তবে ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, ওই অর্থ সম্পূর্ণ নীতি মেনে ‘রয়্যালটি’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালানের পরদিন, বুধবার এই বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনকে টানা ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা।
ইডির তদন্তে উঠে আসা মূল বিস্ফোরক তথ্য:
- নগদ জমা ও অর্থ হস্তান্তর: ইডির দাবি, ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মন্ত্রী থাকাকালীন ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ জমা পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই সংস্থা থেকেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়।
- অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার: ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে MassArt সাধারণ মানুষের থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে। অভিযোগ, কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিক স্বার্থে ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিজেদের অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।
- দুর্গাপুজোর প্রিভিউ টিকিট বিক্রি: কলকাতার ২৪টি খ্যাতনামা দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে ‘প্রিভিউ শো’-এর আয়োজন করে MassArt। ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয় টিকিট। কেবল ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই বিক্রি হয়েছিল ১ লক্ষেরও বেশি টিকিট। সংগৃহীত এই অর্থের বড় একটি অংশ ব্যাঙ্ক থেকে নগদে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
- ৮৫ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক: ইন্দ্রনীল সেন পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর পদে থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের সংস্থাকে ৮৫ কোটি টাকার বেশি সরকারি টেন্ডার দেওয়া হয়। ইডির দাবি, টেন্ডার পাওয়া ওই সংস্থাগুলি থেকে পরে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রিত সংস্থায় বড় অঙ্কের টাকা ঘুরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
মামলার সূত্রপাত
বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি MassArt-এর সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছিল। সমস্ত নগদ টাকা সংগ্রহের উৎস এবং তার চূড়ান্ত ব্যবহার খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরদার করেছে ইডি।