পারমাণবিক বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ! বাজার কাঁপাতে আসছে বিশেষ ‘হিরে ব্যাটারি’

পারমাণবিক বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ! বাজার কাঁপাতে আসছে বিশেষ ‘হিরে ব্যাটারি’

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টল (University of Bristol) এবং ইউকে অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটি (UKAEA) যৌথভাবে উদ্ভাবন করেছে বিশ্বের প্রথম ‘কার্বন-১৪ ডায়মন্ড ব্যাটারি’ (Carbon-14 Diamond Battery)।

কী এই ডায়মন্ড ব্যাটারি এবং কীভাবে তৈরি হয় বিদ্যুৎ?

আমরা সচরাচর যে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করি, তা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করে। কিন্তু ডায়মন্ড ব্যাটারির কাজের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা:

  • তেজস্ক্রিয় কার্বন-১৪: পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত গ্রাফাইট বর্জ্য থেকে ‘কার্বন-১৪’ সংগ্রহ করা হয়।
  • বিটা রেডিয়েশন: এই তেজস্ক্রিয় কার্বন ক্ষয় হওয়ার সময় অবিরত দ্রুতগতির ইলেকট্রন বা ‘বেটা পার্টিকেল’ নির্গত করে।
  • হিরের ভূমিকা: কৃত্রিমভাবে তৈরি ডায়মন্ডের একটি স্তরের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি ঘটানো হয়, যেখানে হিরেটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে। ঠিক যেভাবে সূর্যরশ্মি থেকে সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ তৈরি করে, এখানে তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে একইভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
  • পরিবেশবান্ধব দিক: বিপজ্জনক পারমাণবিক বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহার করে এই ব্যাটারি তৈরি করায় পরিবেশ থেকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের পরিমাণ কমাতেও এটি সাহায্য করবে।

৫,৭০০ বছর ধরে কীভাবে কাজ করবে?

কার্বন-১৪-এর ‘হাফ-লাইফ’ বা অর্ধায়ু প্রায় ৫,৭৩০ বছর। অর্থাৎ, প্রায় ৫,৭০০ বছর পার হওয়ার পরেই এর তেজস্ক্রিয়তা অর্ধেক হবে। তাই এই দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারিটি নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি জুগিয়ে যেতে পারবে।

স্মার্টফোন চালানো যাবে কি?

না, এই ব্যাটারির মূল সীমাবদ্ধতা হলো এর শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত কম। তাই স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ইলেকট্রিক গাড়ি চালানোর মতো উচ্চ ক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

তা হলে কোথায় ব্যবহার হবে এই ব্যাটারি?

যেখানে বছরের পর বছর অতি অল্প কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন, সেখানে এই ব্যাটারি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে:

  • চিকিৎসাক্ষেত্রে: হৃদরোগীদের পেসমেকার, শ্রবণযন্ত্র (Hearing Aid) বা শরীরের ভেতরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ইমপ্ল্যান্টে (যেখানে বারবার অস্ত্রোপচার করে ব্যাটারি বদলানো ঝুঁকিপূর্ণ)।
  • মহাকাশ ও বিজ্ঞান গবেষণায়: কৃত্রিম উপগ্রহ (Satellite), মহাকাশযান, গভীর সমুদ্রের সেন্সর এবং দুর্গম দূরবর্তী এলাকার মনিটরিং ডিভাইসে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রযুক্তিটি এখনও সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়। তবে পারমাণবিক বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে অবিরত শক্তি উৎপাদনের এই কৌশল ভবিষ্যতের জ্বালানি প্রযুক্তিতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *