শহিদ জওয়ানের কফিনবন্দি দেহ নিয়ে ফেরার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি! দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ছেলেসহ ৪ জন

শহিদ জওয়ানের কফিনবন্দি দেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অ্যাম্বুলেন্সের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন শহিদের ছেলে, ভাই, ভাইপো ও চালকসহ মোট ৪ জন। রবিবার উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে অযোধ্যা-সুলতানপুর সীমানার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াত সুবেদার মেজর সত্যবান উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার রুদ্রপুর থানার গালিয়া দুদহাইলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং চণ্ডীগড়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি শহিদ হন। তাঁর মরদেহ অ্যাম্বুল্যান্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে সুলতানপুরের হালিয়াপুরের কাছে আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন অ্যাম্বুল্যান্স চালক এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হালিয়াপুর থানার পুলিশ। পরে সেখানে যান সুলতানপুরের পুলিশ সুপার বিনীত জয়সওয়াল এবং জেলাশাসক ইন্দ্রজিৎ সিং। ঘটনাস্থলেই শহিদ জওয়ানের ছেলে গৌরব সিং (২৮) এবং অ্যাম্বুল্যান্স চালক জসপাল সিংয়ের (৩০) মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় সেনা আধিকারিকের ভাই রাজন চৌধুরী (৩৬) ও ভাইপো রাম সমুঝ সিংকে (৪০) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদেরও মৃত্যু হয়।
মৃত চারজনই দেওরিয়ার বাসিন্দা। তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শহিদ মেজর সত্যবানের দেহ হালিয়াপুর থানায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে সুলতানপুরের পুলিশ সুপার বিনীত জয়সওয়াল জানান, চণ্ডীগড় থেকে এক সুবেদারের মরদেহ অ্যাম্বুল্যান্সে করে দেওরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথেই দুর্ভাগ্যজনক এই দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলান্সে থাকা চার জনেরই মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।