মন্ত্র লিখলেই মহাবিপদ! মহালয়ার ৫ দিন আগেই এই রাজপরিবারে কেন শুরু হলো দুর্গাপুজো?

মহালয়ার আগেই উৎসবের আমেজ ছড়ালো পুরুলিয়ার ঐতিহাসিক পঞ্চকোট রাজপরিবারে। হাজার বছরের পুরোনো প্রথা মেনে পিতৃপক্ষেই ঐতিহ্যবাহী ‘ষোল কল্পের’ দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছে রাজরাজেশ্বরী ঠাকুরদালানে। উজ্জয়িনীর ধারনগরের ধারা অনুসরণ করে প্রায় দু’হাজার বছর ধরে আষাঢ়ীয় কৃষ্ণপক্ষের নবমীতে মহালয়ার পাঁচদিন আগেই এখানকার শ্রীশ্রী শিখরবাসিনী দুর্গার বোধন ও আরতি শুরু হয়। রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা দামোদর শেখর সিং দেও বাহাদুরের আমল থেকে চলে আসা এই পুজোর মূল আকর্ষণ হলো এর দুর্লভ প্রথা ও গভীর গোপনীয়তা।
এই রাজপুজোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মায়ের গোপন মন্ত্র, অলৌকিক আসন এবং বিশেষ গুপ্ত ভোগ। লোকশ্রুতি ও রাজপরিবারের নিয়ম অনুযায়ী, এই পুজোর ভূর্জপত্রে লেখা তান্রিক মন্ত্র কোথাও সংরক্ষণ বা নথিভুক্ত করতে গেলে ঘটে চরম বিপর্যয়। বংশপরম্পরায় পুরোহিতরা মুখস্থ বিদ্যার মাধ্যমেই চণ্ডীপাঠ ও রাজকীয় পুজো সম্পন্ন করে আসছেন। নিয়মিত পুজোয় দেবীকে ল্যাটা মাছ অর্পণ করা আবশ্যক এবং মহাসপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত চতুর্ভুজা অষ্টধাতুর প্রতিমাকে বিশেষ গুপ্ত আসনে রাখা হয়, যা রাজপরিবারের এক অনন্য লোকসংস্কৃতির অনন্য নিদর্শন।