নন্দীগ্রামে ইতিহাস গড়া জয়! শুভেন্দুর রেকর্ড ভেঙে ১.২২ লক্ষ ভোটে বিজয়ী বিজেপির হাসিরানি রথ

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে একছত্র জয় হাসিল করলেন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র প্রার্থী হাসিরানি রথ। এই বিপুল জয়ের সাথে সাথেই চুরমার হয়ে গেল নন্দীগ্রামের অতীতের সমস্ত নির্বাচনী রেকর্ড।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, যা এতদিন ছিল এই কেন্দ্রের সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড। নিজের সেই রেকর্ড ভাঙায় উচ্ছ্বাস গোপন করেননি তিনি। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই সাংবাদিক সম্মেলনে হাসিরানি রথকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে একটিই আবদার করেছিলাম—যেন তাঁরা হাসিরানি রথকে আমার থেকেও বেশি ভোটে বিজয়ী করেন। নন্দীগ্রামের মানুষ আমার সেই কথা রেখেছেন। আমার নিজের জয়ের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন হাসিরানি।”
উন্নয়নের বার্তা ও সংখ্যালঘু ভোটের নতুন সমীকরণ
ভোট গণনার শুরু থেকেই বিজেপির ঘরে একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে। ফল প্রকাশের পর জয়ী প্রার্থী হাসিরানি রথ জানান, শুরু থেকেই তাঁদের লক্ষ্য ছিল জয়ের ব্যবধানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, এই নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের একটি বড় অংশের সমর্থন বিজেপির ঝুলিতে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নের ইতিবাচক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর ফলেই এই রায় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে, উপনির্বাচনের সার্বিক ফলাফলের পর সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের বিগত কয়েক মাসের কাজকর্ম দেখে মুসলিম ভোটারদের একাংশের ভুল ধারণা ভেঙেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল—যেমন ক্ষমতায় এলে ধর্মাচরণের স্বাধীনতা থাকবে না বা ডিটেনশন শিবিরে পাঠানো হবে—মানুষ সেই ভিত্তিহীন প্রচার প্রত্যাখ্যান করেছে। রেজিনগরসহ একাধিক এলাকায় বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন বিজেপির উন্নয়নের রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখছেন।