এসএসসি-র ২৬ হাজার নিয়োগে ফের আইনি জট! নতুন বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে আবারও দেখা দিল আইনি জটিলতা। কমিশনের তরফে জারি করা নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে নতুন মামলা। চলতি সপ্তাহেই বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমা মিদ্যা সহ ৩৪ জন চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী। আবেদনকারীদের প্রধান আইনি যুক্তি হলো—যেকোনো সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে একবার পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং প্রাপ্ত নম্বরসহ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশিত হয়ে গেলে, প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়া যায় না। চূড়ান্ত তালিকা থেকে কোনো প্রার্থীর নাম বাদ পড়লে স্বাভাবিক নিয়মেই ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের দিয়ে শূন্যপদ পূরণ করা উচিত। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশ পেলেই সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনত ‘লক’ বা চূড়ান্ত হয়ে যায়।
অভিযোগ করা হয়েছে, প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর কেবল বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়ে নতুন করে ইন্টারভিউ নিলে ওয়েটিং লিস্টে থাকা যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা চরম বঞ্চনার শিকার হবেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ঐ বছরই ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার ভিত্তিতে একাদশ-দ্বাদশের মেধা তালিকা ও ইন্টারভিউ পর্ব শেষে চূড়ান্ত প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওবিসি (OBC) তালিকা সংশোধিত হওয়ায় অনেক প্রার্থীর সাব-ক্যাটাগরি বদলে যায়। এর পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘রিভাইসড’ তালিকা প্রকাশ করে, যার বৈধতা নিয়েই এখন উচ্চ আদালতে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে একদিকে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদনের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দিয়ে অনলাইন পোর্টাল খোলা হয়েছে (৭ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত), অন্যদিকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগে রিভাইসড তালিকা অনুযায়ী ইন্টারভিউ শুরু করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একধাক্কায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কমিশনের নতুন পদক্ষেপ ও সংশোধিত তালিকাকে ঘিরে হাইকোর্টে মামলা হওয়ায় ২৬ হাজারের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।