বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ— কে এই নাভি পিল্লাই, যাঁর ঝুলিতে এল শান্তির নোবেল?

বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ— কে এই নাভি পিল্লাই, যাঁর ঝুলিতে এল শান্তির নোবেল?

অসলো: আন্তর্জাতিক আইনে অসামান্য অবদান এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন বিখ্যাত আইনজীবী তথা রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন মানবাধিকার প্রধান নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। শুক্রবার নরওয়ের অসলোতে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী এই সম্মাননার কথা ঘোষণা করা হয়।

মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিককালে বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পাওয়া হিংসা, সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় রাষ্ট্র এবং জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নাভি পিল্লাই প্রতিনিয়ত সরব হয়েছেন। ক্ষমতাশালী শক্তির অপব্যবহার রোধ, আইনি শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের শিকার মানুষদের ন্যায়বিচার দিতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন সারা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নোবেল কমিটির এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তাঁকে ‘আমাদের সময়ের আন্তর্জাতিক আইনি নীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

তামিল পরিবার থেকে উঠে আসা লড়াইয়ের গল্প ৮৫ বছর বয়সি নাভি পিল্লাইয়ের শিকড় ভারতের তামিলনাড়ুতে। ১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে তাঁর জন্ম। পিতা নারায়ণস্বামী নাইডু ও মাতা সান্থামা নাইডু। ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল অঞ্চলে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহিলা আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন তিনি। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়ে তিনি নিপীড়িত কর্মীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করে নজর কেড়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর পিল্লাই সে দেশের হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। একই বছর রোয়ান্ডার গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হন।

সম্প্রতি প্যালেস্তাইন ভূখণ্ড সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় গাজায় ইজরায়েলি আগ্রাসনকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন এই বিচারক।

আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে কীভাবে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ বিপন্ন হয়, তা উল্লেখ করে নোবেল কমিটি জানিয়েছে— বাধার মুখে দাঁড়িয়েও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও সাহস বজায় রাখার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাইয়ের ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *