‘বিক্ষোভের অজুহাতে পুরো শহর অচল করা যাবে না’, শনিতে দিল্লি মেট্রো চালু রাখার কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ‘SIR’-এর বিরোধিতায় আগামী ১০ অক্টোবর (শনিবার) দিল্লির যন্তর মন্তরে মেগা সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-সহ একাধিক সংগঠন। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একাধিক এলাকায় বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা ছাড়াও দু’দিনের জন্য মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পুলিশ শুক্রবার রাত ৯টা থেকেই ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বেরোনোর গেট বন্ধ রাখতে ডিএমআরসি (DMRC)-কে অনুরোধ জানায়। এমনকি দিল্লিগামী বেশ কিছু ট্রেনও বাতিল করা হয়।
পুলিশের এই স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হলে শুক্রবার শুনানির শেষে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়— আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার দিল্লি মেট্রো পরিষেবা কোনোভাবেই পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না।
মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পর্যবেক্ষণ, “প্রত্যেক সাধারণ নাগরিকের নিজস্ব গাড়ি নেই। শুধু একটি বিক্ষোভের অজুহাতে পুরো শহরকে অচল করে দেওয়া যায় না। এই ধরনের চরম পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে।”
জনস্বার্থ ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে:
- মেট্রো পরিষেবায় কোনো পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা নয়: মেট্রো বা রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ করা যাবে না। উপযুক্ত নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা চালু রাখতে হবে।
- ব্যাপক প্রচার: সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কতটুকু পরিষেবা চালু থাকবে এবং কী কী বিধিনিষেধ থাকছে, তা আগে থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে।
- ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি: সড়কপথে যাতায়াতকারী নাগরিকদের সুবিধার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে আগাম ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপে শনিবারের বড় আকারের সমাবেশের মধ্যেও দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড়সড় স্বস্তি পেলেন সাধারণ দিল্লিবাসী।