ম্যান্ডেলার আইনি লড়াকু থেকে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে: ২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভি পিল্লাই

ম্যান্ডেলার আইনি লড়াকু থেকে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে: ২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভি পিল্লাই

নরওয়ের অসলো: ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ৮৫ বছর বয়সি ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করেছে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস জানিয়েছেন, মহাত্মা গান্ধীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ করে গেছেন নভি পিল্লাই।

অপমানের জবাব আইনি লড়াইয়ে

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্ম নেওয়া নভি পিল্লাই শৈশব থেকেই বর্ণভেদের নিষ্ঠুর শিকার হয়েছিলেন। গায়ের রঙের কারণে একসময় তাঁকে আদালতের বিচারকদের কক্ষে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি। কিন্তু এই অপমানকেই তিনি রূপান্তর করেন নিজের শক্তির হাতিয়ারে।

১৯৬৩ সালে নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলা বিভাগে স্নাতক করার পর তিনি আইনের পাঠ সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। যোগ্যতা অর্জন করে তিনি নাটাল প্রদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে নিজস্ব ল ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি সেই হাইকোর্টেরই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়ে ইতিহাস গড়েন।

ম্যান্ডেলার আইনি লড়াই ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবদান

আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবনের শুরু থেকেই বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন পিল্লাই। বিশ্বনেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বহু আন্দোলনকারীর পক্ষে আদালতে সাহসের সঙ্গে আইনি লড়াই চালান তিনি।

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাতেও তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন:

  • আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও আদালত: রুয়ান্ডা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICTR) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) বিচারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
  • ঐতিহাসিক রায়: রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালে থাকাকালীন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও গণধর্ষণকে ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার ঐতিহাসিক রায় দেন তিনি।
  • রাষ্ট্রপুঞ্জে নেতৃত্ব: ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘ/রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নোবেল জয়ের কারণ ও পুরস্কারের তথ্য

নোবেল কমিটির মতে, সংঘাত ও যুদ্ধের পরিস্থিতিতে শক্তি প্রয়োগের বদলে আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে বিরোধ মেটানো এবং প্রভাবশালী অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে নভি পিল্লাইয়ের ভূমিকা অতুলনীয়।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের প্রয়াণ দিবসে নরওয়ের অসলো শহরে এক জমকালো অনুষ্ঠানে ৮৫ বছর বয়সি এই তামিল বংশোদ্ভূত মহীয়সী নারীর হাতে নোবেল মেডেল, একটি ডিপ্লোমা সনদ এবং ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) তুলে দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *