জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়! সিজিপি নেতার তেরঙা মিছিলে ‘না’ বলল না আদালত, বাড়ছে আইনি পারদ

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রস্তাবিত ‘জাতীয় পতাকা ওড়ানো’ ও ‘তেরঙা মার্চ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চড়ছে পারদ। তবে এই বিতর্কিত কর্মসূচির ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দিল না দিল্লি হাইকোর্ট। অন্যদিকে, সেন্ট্রাল পার্কে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আয়োজকদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকার।
বিচারপতি নীতিন সাম্ব্রের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বেঞ্চে আয়োজিত এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৩ নভেম্বর।
ব্যবসায়ীদের আপত্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
কনট প্লেসের পালিকা বাজারের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা দীপকের এই কর্মসূচির বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আবেদনকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী যুক্তি দেন যে, সেন্ট্রাল পার্ক কোনো প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির নির্দিষ্ট স্থান নয়। উৎসবের এই মরশুমে (দশেরার সপ্তাহান্তে) সেখানে সাধারণ মানুষের সমাগম হলে পুলিশের ব্যারিকেড ও বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হবে।
ব্যবসায়ীরা কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ বন্ধের আর্জি জানালেও হাইকোর্ট এতে স্থগিতাদেশ দেয়নি। তবে কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করবে এবং আয়োজক অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।
তেরঙা মার্চের ডাক অভিজিৎ দীপকের
আইনি জট ও পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেই সিজিপি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আমজনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় এই ‘তেরঙা মার্চ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
দীপকে দাবি করেন, সম্প্রতি আশুতোষ ও সৌরভ নামে দুই যুবককে কেবল জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দীপকের বার্তা— “জাতীয় পতাকা উত্তোলন কোনো অপরাধ হতে পারে না। আমাদের জাতীয় পতাকার চেয়ে বড় আর কিছুই নেই। আমি সবাইকে ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় আমাদের সঙ্গে তেরঙা মার্চে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
দেশজুড়ে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান
শুধু দিল্লি নয়, দিল্লির বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদেরও নিজ নিজ শহরে ও এলাকায় সন্ধ্যায় জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল বা মার্চ করার আবেদন জানিয়েছেন এই সিজিপি নেতা।
দীপকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই কর্মসূচি পালন করার পর তাঁকেও হয়তো গ্রেফতার করা হতে পারে, তবে তিনি এতে পিছিয়ে আসবেন না। জাতীয় পতাকা দেশের গর্ব এবং তা উত্তোলন করার অধিকার সবার রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
বর্তমানে ১৬ অক্টোবরের প্রস্তাবিত এই কর্মসূচি ঘিরে কনট প্লেস ও তার আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর পুলিশ প্রশাসন কড়া নজর রাখছে।