বিকল্প বিনিয়োগ ও বিদেশি লগ্নির সুবিধাভোগীদের তথ্য প্রকাশ্যে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের! মহুয়া মৈত্রকে সংসদে সরব হওয়ার পরামর্শ

বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল (AIF) এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী (FPI)-র মাধ্যমে লগ্নিকৃত বিপুল অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও সংস্থার নাম জনসমক্ষে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন, বিচারপতি আর মহাদেবন এবং বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)-র এই ধরনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
মামলার মূল সওয়াল-জবাব:
- মহুয়ার আইনজীবীর যুক্তি: আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বাজারে কারা এই বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন তা আড়ালে থাকলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জালিয়াতির শিকার হতে পারেন। জনগণের অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।
- সেবি-র অবস্থান: সেবি শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে যে, লগ্নি সংক্রান্ত এই সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ ‘গোপনীয়’। বাজার নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে মালিকানার বিশদ বিবরণ সেবি এবং অর্থপ্রাপকের (কাস্টোডিয়ান) কাছে সংরক্ষিত থাকে, যা বর্তমান আইনে সাধারণের কাছে প্রকাশ করা যায় না।
প্রেক্ষাপট ও আদালতের পরামর্শ: বর্তমানে ব্যাঙ্ক থেকে কর্পোরেট ঋণ পাওয়ার জটিলতা এড়াতে দেশে এআইএফ (AIF) ব্যবসা বার্ষিক ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বাড়ছে, যার বর্তমান পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি, এফপিআই (FPI)-এর মাধ্যমে বিদেশিরা ভারতীয় শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি করেন।
এই বিপুল অর্থের সুবিধাভোগীদের তথ্য প্রকাশ্যে আনার জন্য বর্তমান আইনি পরিকাঠামো যে যথেষ্ট নয়, তা মেনে নিয়েই শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ মহুয়া মৈত্রকে ‘পরামর্শ’ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, একজন সাংসদ হিসেবে তিনি যেন সংসদের অধিবেশনে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের প্রস্তাব আনেন।