বারুইপুরের জনসভায় উপচেপড়া ভিড়, ২০২৯-এ ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের হার নিশ্চিত বলে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর!

জয় বিশ্বাস, বারুইপুর – দেশজুড়ে বিজেপির ঘোষিত ২০ হাজার কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভায় কর্মী-সমর্থকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল। বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মথুরাপুর, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং জয়নগর সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি কয়েক হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে সভা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উন্মাদনা তৈরি হয়।
জনসভার মঞ্চ থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের তথাকথিত ‘আঁতাত’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, যে বামেদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একদা তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল, আজ তারা নিজেরাই সিপিএমের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে ব্যস্ত। মমতার সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেন, বাংলায় রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে বিরোধীরা এখন দিল্লিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ দিন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে ‘এঁচোড়ে পাকা ভাইপো’ বলে কটাক্ষ করে সরাসরি নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। শুভেন্দু দাবি করেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হলে অভিষেকের পরাজয় নিশ্চিত। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি যে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন, আগামী নির্বাচনে বিজেপি তার চেয়েও অন্তত একটি বেশি ভোটের ব্যবধানে সেখানে জয়ী হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এর পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের অতীত নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে ফের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি দুর্নীতির ইস্যুতেও সুর চড়ান তিনি। আমজনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের মনে প্রশ্ন বড় চোরটা কবে যাবে। সময় বুঝে সব ঠিকঠাক করে ব্যবস্থা নিতে হয়, বড় চোর যাবেই, চিন্তার কোনও কারণ নেই।” বামপন্থী রাজনীতি ও শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একযোগে নিশানা করে বারুইপুরের মঞ্চ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু।