অভিনেত্রীকে সটান বানিয়ে দিল ‘বিজেপি নেত্রী’, ভাইরাল ছবি শনাক্ত করতে গিয়ে চরম হাসির খোরাক ইলন মাস্কের ‘গ্রক’!

সুকুমার রায়ের সেই বিখ্যাত ‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল’-এর মতোই কাণ্ড ঘটিয়ে বসল ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট ‘গ্রক’ (Grok)। এক জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রীকে সটান তামিলনাড়ুর বিজেপি নেত্রী বানিয়ে দিয়ে সমাজমাধ্যমে চরম হাসির খোরাক হলো এই এআই বট। যা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় চলছে তুমুল ট্রোলিং ও ব্যঙ্গবিদ্রূপ।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ছবিকে কেন্দ্র করে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, চওড়া সবুজ পাড়ের হলুদ শাড়ি ও হাতে মানানসই কাচের চুড়ি পরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক তরুণী, আর তাঁর পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে জনসমুদ্র। মহিলার আসল পরিচয় জানতে কৌতূহলী হয়ে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ধীরাজ নামের এক নেটিজেন ছবিটি পোস্ট করে গ্রকের কাছে জানতে চান, “ইনি কে?”
ইলন মাস্কের দাবি অনুযায়ী গ্রক নাকি যেকোনো প্রশ্নের সবচেয়ে নির্ভুল ও খাঁটি তথ্য দেয়। তবে সেই দাবিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে গ্রক উত্তর দেয়, ছবিতে থাকা মহিলা হলেন কোয়েম্বাটুর জেলা বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক এবং কাভুনদামপাল্যম বিধানসভার প্রাক্তন আহ্বায়ক ড. এম প্রীতিলক্ষ্মী। এখানেই শেষ নয়, গ্রক আরও মনগড়া ব্যাখ্যা জুড়ে দেয় যে, এই সুন্দরীকে নিয়ে নেটপাড়ায় নাকি মিম চলছে এবং অনেকে মন্তব্য করছেন যেখানকার নেত্রী তিনি, সেখানকার ভোটারদের ভাগ্য সত্যিই খুব ভালো!
গ্রকের এমন ‘জ্ঞানগর্ভ’ বিভ্রান্তি মুহূর্তেই ধরে ফেলেন কর্ণাটকের নেটিজেনরা। মন্তব্যের ঘরে একজন সরাসরি ভুল ধরিয়ে দিয়ে লেখেন, “ইনি কোনো বিজেপি নেত্রী নন, ইনি কন্নড় অভিনেত্রী তপস্বিনী পুঞ্চা।” ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পর অবশ্য ঢোঁক গিলে ভুল শুধরে নেয় গ্রক এবং স্বীকার করে যে তিনি সত্যিই অভিনেত্রী তপস্বিনী।
তবে ততক্ষণে নেটদুনিয়ায় হাসির রোল পড়ে গিয়েছে। অনেকেই মাস্ককে ট্যাগ করে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করতে থাকেন, মানুষের বিকল্প হওয়া তো দূর, সাধারণ পরিচয় চিনতেই মুখ থুবড়ে পড়ছে অত্যাধুনিক এআই। সব মিলিয়ে এক অভিনেত্রীকে রাতারাতি রাজনৈতিক নেত্রী বানিয়ে দিয়ে নেটপাড়ায় চরম ট্রোলের মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের বহুলচর্চিত চ্যাটবট।