অনুমতি ছাড়া চন্দননগরে প্রবেশের অধিকার ছিল না, ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হতেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়!

দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বিক্রির দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। এবার ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খুলে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, লোকসভার সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও চন্দননগর বিধানসভা এলাকায় স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে পারতেন না তিনি; প্রাক্তন মন্ত্রীর আগাম অনুমতি ও সবুজ সংকেত ছাড়া সেখানে প্রবেশ একপ্রকার নিষিদ্ধ ছিল।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে চুঁচুড়া পুলিশ লাইনে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে কাজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, একই রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও প্রাক্তন মন্ত্রীর মনোভাবের কারণেই চন্দননগরে যৌথভাবে কোনো জনকল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত আলাপও ছিল না।
চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেনের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে রচনা বলেন, ওই এলাকার যেকোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে মন্ত্রীর আগাম অনুমতি ও ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ বাধ্যতামূলক ছিল। কটাক্ষের সুরে তিনি আরও মন্তব্য করেন, “শিল্পী হিসেবে ইন্দ্রনীল সেন একসময় জনপ্রিয়তা পেলেও রাজনীতিবিদ হিসেবে উনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং কোনোভাবেই ভালো মানুষ বা প্রকৃত নেতা হয়ে উঠতে পারেননি।”
উল্লেখ্য, ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর আরেক সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও সমাজমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন। ইন্দ্রনীলের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন তিনি। দুর্নীতির পাশাপাশি প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম ও নিগ্রহের এমন একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে।