আইন ও নীতিতে বিরাট বদল, প্রাথমিকে এক শ্রেণিতে এবার থেকে কি একজনই শিক্ষক

জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় আমূল পরিবর্তনের ভাবনার কথা জানালেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রাথমিক স্তরে আলাদা বিষয়ের জন্য পৃথক শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, কারণ সমস্ত পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে আসা শিক্ষকরা শিশুদের সব বিষয় পড়াতেই সক্ষম। নতুন এই ভাবনায় ক্লাসভিত্তিক শিক্ষকের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি শ্রেণিকক্ষের সার্বিক দায়ভার থাকবে সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক নির্ধারিত শিক্ষকের ওপর। শিক্ষার্থীরা পুরো বছরে কতটা শিখল এবং সার্বিক অগ্রগতি কেমন হলো, তার সম্পূর্ণ দায়ও সেই শিক্ষকের ওপর বর্তাবে। যদি দেখা যায় শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে পারছে না, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কর্তৃপক্ষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।
তাছাড়া ছাত্র এবং শিক্ষকের আনুপাতিক হিসাবও আগের তুলনায় যথেষ্ট কমিয়ে আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলে প্রতি ২৬ জন শিক্ষার্থীপিছু একজন করে শিক্ষক বরাদ্দ থাকলেও, নতুন ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পর প্রতি ২০ জন ছাত্রে একজন করে শিক্ষক পাওয়া যাবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শুধু পড়াশোনার তদারকি নয়, শিক্ষকদের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধিও এখন থেকে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষমতা ও উন্নতির ওপর নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষকের থেকে জবাবদিহি নেওয়া হবে কেন তাঁর বেতন বাড়ানো উচিত। শিক্ষাসংসদের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে পরিকাঠামো ও পঠনপাঠন সংক্রান্ত আলোচনার সময় এই সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরা হয়।