এআইয়ের পরামর্শে ওষুধ বন্ধ, মার্কিন তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, সতর্কতা জরুরি

এআইয়ের পরামর্শে ওষুধ বন্ধ, মার্কিন তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, সতর্কতা জরুরি

চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এক মার্কিন তরুণীর মৃত্যু। চ্যাটজিপিটির পরামর্শ মেনে মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমানোর ফলেই ৩১ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বোয়েন ওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা-মা। সিয়াটলের বাসিন্দা ওই তরুণী চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়াই চ্যাটবটের দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে ওষুধের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে এনেছিলেন। পরিবারের দায়ের করা মামলা অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা চিকিৎসকদের না জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিং কাউন্টির মেডিক্যাল পরীক্ষকের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মৃগীরোগীর আকস্মিক অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিলেও তা রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করতে পারে না কিংবা সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিচার করতে সক্ষম নয়। মৃগীরোগে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধের মাত্রা কমালে বা বন্ধ করলে খিঁচুনি আবার ফিরে আসতে পারে এবং তার তীব্রতা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। একটানা পাঁচ মিনিট বা তার বেশি সময় খিঁচুনি চললে তা প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই রোগ সম্পর্কে জানার মাধ্যম হিসেবে এআই ব্যবহার করা গেলেও, তা কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে না। ওষুধ বদলানো বা বন্ধ করার আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *