স্বাস্থ্যসাথীতে মিলল ২৫ লক্ষ ভুয়ো কার্ড! ‘ওপেনিংয়েই’ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আবাস ও জব কার্ডের পর এবার রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেও ব্যাপক দুর্নীতির পর্দাফাঁস হলো। বাড়ি বাড়ি সরকারি কর্মীদের চিরুনি তল্লাশি এবং অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষের বেশি ভুয়ো ও অস্তিত্বহীন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের হদিশ মিলেছে। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা চালুর প্রস্তুতি চলাকালীন এই অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশাল সংখ্যক ভুয়ো কার্ডের বিপরীতে প্রতি বছর সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম বাবদ খরচ হচ্ছিল, যা সরাসরি রাজ্যের কোষাগারে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় রূপক অর্থে মন্তব্য করেছেন যে, এটি দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র। কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে উপভোক্তা, চিকিৎসার দাবি, চিকিৎসকের ভুয়ো স্বাক্ষর, হাসপাতাল এবং থার্ড পার্টি অ্যাসিওরেন্সের বিভিন্ন স্তরে জালিয়াতির জাল ছড়িয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরো আর্থিক দুর্নীতির ফরেনসিক অডিট শুরু হয়েছে এবং তদন্ত এগোলে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হয়, যার সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম সরকার বহন করে।