আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, বাংলায় কি বড় বিপদের আশঙ্কা?

বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মুরাসু আগামী সপ্তাহে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মছলিপত্তনম, নেল্লোর ও নারসাপুরের মাঝে স্থলভাগে প্রবেশ করার সময় এই ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্ধ্র উপকূলে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো বড় বিপদের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, তবে সামগ্রिकভাবে আবহাওয়া মূলত শুষ্কই থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে কোনো বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবে মৎস্যজীবীদের আগামী ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র মুরাসু-এর নামানুসারে এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে ভারত। অতীতে এই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েই যুদ্ধের ঘোষণা বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রচার করা হতো জনগণের উদ্দেশ্যে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বৃষ্টি হলেও, মুরাসু-এর ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস নেই। সপ্তাহের শুরুতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও, বুধবার থেকে রাজ্যজুড়ে পুরোপুরি শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলেই এই ঝড়ের মূল দাপট সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন আবহবিদরা, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের জন্য স্বস্তির খবর।