স্পিকারের ‘ছোট ঘটনা’ মন্তব্য, চোরবাগান কাণ্ডে তীব্র বিতর্ক!

চোরবাগান মৃত্যু মিছিল: অধ্যক্ষের মন্তব্যে বিতর্ক, রাজ্যপাল-অধ্যক্ষের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
কলকাতা: চোরবাগানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল রাজ্যে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে, রাজ্যপাল আর এন রবি’র সঙ্গে সাক্ষাতের পর অধ্যক্ষ এক নতুন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন।
অধ্যক্ষের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক:
সোমবার বিধানসভায় নিজের ঘরে বসে চোরবাগানের ঘটনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু বলেন, “আমরা সবাই দুর্গাপূজোয় আনন্দ করেছি। ছোট্ট একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেটার জন্য মনটা ভারাক্রান্ত হয়েছিল।” তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ ফেসবুকে অধ্যক্ষের বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে প্রশ্ন তোলেন, “মাননীয় বিধানসভার অধ্যক্ষ, পুজোয় চোরবাগানের মৃত্যুর মিছিল ছোট্ট ঘটনা? মুখ থেকে বের হল? বিবৃতি দিয়ে সংশোধন করে নেওয়া প্রয়োজন। তালিকা তৈরি রাখুন। এরপর অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাবে চোরবাগানের নিহত প্রত্যেকের নাম রাখতে হবে।”
বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামানও অধ্যক্ষের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “বিধানসভায় বিধায়কদের কাছে অধ্যক্ষ হলেন অভিভাবক। কিন্তু চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা স্পিকার যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বলার কোনো ভাষা নেই। দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য। দায়িত্বশীল ব্যক্তি উনি। দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে ওই ধরনের মন্তব্য হতাশাব্যাঞ্জক।”
প্রসঙ্গত, ১৯ জনের মৃত্যুর এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেন। নিহতদের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলে দেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তাঁর কলকাতা সফরকালে কর্মসূচি বাতিল করে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। এই ঘটনা তদন্তের জন্য প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
রাজ্যপাল-অধ্যক্ষের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ:
অন্যদিকে, সোমবার রাজ্যপাল আর এন রবি’র সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। তাঁদের মধ্যে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতের পর সাংবাদিক বৈঠকে অধ্যক্ষ এক অভিনব উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এবার থেকে প্রত্যেক বিধায়ককে প্রতি মাসে তাদের বিধানসভা এলাকায় ১০০টি করে গাছ লাগাতে হবে। এই গাছগুলি তিন বছর ধরে পরিচর্যা করার দায়িত্বও বিধায়কদের ওপর থাকবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের পরিবেশ সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চোরবাগান দুর্ঘটনার মর্মান্তিক স্মৃতি এবং অধ্যক্ষের বিতর্কিত মন্তব্যের মধ্যে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ রাজ্যের জনসাধারণের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন ১৯ জনের মৃত্যুর মতো একটি গুরুতর ঘটনাকে ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলে উল্লেখ করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনই বিধায়কদের বৃক্ষরোপণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত করার এই প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে।