স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিশাল দুর্নীতি! বড় মাথারাও কি এবার গ্রেফতার?

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিশাল দুর্নীতি! বড় মাথারাও কি এবার গ্রেফতার?

 

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৩০ হাজার কোটির দুর্নীতি: তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: রাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ঘিরে বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, এই দুর্নীতির মূলে রয়েছে টিপিএ (TPA) বা মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলি। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের সময় চেয়েছেন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসাথীর এই দুর্নীতির জাল অত্যন্ত বিস্তৃত। এর সঙ্গে নিচুতলার স্বাস্থ্যকর্মী, বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসক, এমনকি উপভোক্তার পরিবারের সদস্যরাও জড়িত রয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন ঘটনাও নজরে এসেছে যেখানে কোনো উপভোক্তা মারা যাওয়ার ৩-৪ বছর পরেও তাঁর নামে হাসপাতালে চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামে অস্ত্রোপচারের ভুয়ো বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অতীতে স্বাস্থ্যসাথীর অনিয়মকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। নার্সিংহোম ও চিকিৎসকদের ওপর কিছুটা রাশ টানা হলেও, মূল হোতা টিপিএ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, এই সংস্থাগুলোই পুরো দুর্নীতির মূল চালিকাশক্তি।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য দফতর এই কেলেঙ্কারির সমস্ত নথি সংগ্রহ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি পাওয়া মাত্রই আর্থিক দুর্নীতি তদন্তে দক্ষ কেন্দ্রীয় বা বিশেষ তদন্তকারী সংস্থার হাতে এই নথি তুলে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুর্নীতির এই চক্র ভাঙতে তিনি বদ্ধপরিকর। হাসপাতালের নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে যে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে, তা নিয়ে তিনি ধৈর্য হারিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন। এখন মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *