অবশেষে খাঁচাবন্দি হচ্ছে বক্সার সেই বাঘিনী!

অবশেষে খাঁচাবন্দি হচ্ছে বক্সার সেই বাঘিনী!

আসামের জঙ্গলে পথভ্রষ্ট বাঘিনী: উদ্ধার অভিযানে বনদফতর

বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনীটি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সীমানা পেরিয়ে আসামের রাইমোনা টাইগার রিজার্ভে প্রবেশ করেছে। গত ১২ দিন ধরে বাঘিনীটির গতিবিধি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিল বনদফতর। রেডিও কলার ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানা যায়, বাঘিনীটি জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের কাছে চলে এসেছে। বর্তমানে সেটি দোতনা গ্রামের একটি বাঁশবাগানে অবস্থান করছে, যেখানে বনকর্মীরা থার্মাল ড্রোনের সাহায্যে সেটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করেছেন।

নিরাপদ উদ্ধারে বিশেষ সতর্কতা
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং বাঘিনীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে বনদফতর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (NTCA) এবং ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে গোটা বাঁশবাগান এলাকাটি বিশেষ জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাওঁ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো অভিযানের তদারকি করছেন। বাঘিনীটিকে ঘুমপাড়ানি গুলির মাধ্যমে অজ্ঞান করে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বাঘের স্বাভাবিক বিচরণ ক্ষেত্র পরিবর্তনকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বাঘিনীটির লোকালয়ে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকায় এলাকাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তবে বনদফতরের দ্রুত পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বাঘিনীটিকে সফলভাবে উদ্ধার করে পুনরায় বক্সার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তা বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এক ঝলকে

  • বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আসা বাঘিনীটি সীমানা পেরিয়ে আসামে প্রবেশ করে।
  • ১২ দিন ধরে পর্যবেক্ষণের পর সেটিকে আসামের দোতনার একটি বাঁশবাগানে শনাক্ত করা হয়েছে।
  • বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা সরাসরি উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
  • ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে নিরাপদে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *