জাকির নায়েককে কেন ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে না মালয়েশিয়া? ফাঁস হলো আসল সত্য!

জাকির নায়েক ইস্যুতে অনড় মালয়েশিয়া: ভারতের কূটনৈতিক কৌশলে বড় ধাক্কা
ভারতে অর্থপাচার ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রধান জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। তবে ২০১০ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ আইনের দোহাই দিয়ে কুয়ালালামপুর বারবার ভারতের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিয়ন ইসমাইল স্পষ্ট করেছেন যে, জাকির নায়েক স্থানীয় আইন মেনে চললে তার দেশেই অবস্থান করতে পারবেন। এমনকি ভারতের পক্ষ থেকে সম্প্রতি নতুন কোনো অনুরোধও আসেনি বলে দাবি করেছে দেশটি।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অস্বস্তি ও অসংগতি
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মালয়েশিয়াকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টন চাল সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইটিইসি (ITEC) কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার মতো একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। অথচ জাতীয় নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে মালয়েশিয়ার এমন অনমনীয় ও রক্ষণশীল মনোভাব ভারতের কূটনৈতিক মহলে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেও, মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অসহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে।
মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জাকির নায়েকের বিশেষ জনপ্রিয়তা থাকায় কুয়ালালামপুর এই ইস্যুতে কোনো প্রকার নমনীয়তা প্রদর্শনে আগ্রহী নয়। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা সত্ত্বেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারতের এই কূটনৈতিক কৌশলের ব্যর্থতা আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্কে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ২০১০ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি ও অভ্যন্তরীণ আইনের যুক্তিতে জাকির নায়েককে হস্তান্তর করছে না মালয়েশিয়া।
- ২০১৬ সালে ভারতে নিষিদ্ধ হওয়া জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও উসকানিমূলক বক্তব্যের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
- ভারত খাদ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা দিলেও, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অনড় অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।
- মালয়েশিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে জাকির নায়েকের জনপ্রিয়তা ও সরকারের রক্ষণশীল মনোভাবই এই স্থবিরতার মূল কারণ।