মৃতের নামেও স্বাস্থ্যসাথীর টাকা! দুর্নীতিতে কি জড়িত খোদ আধিকারিকরাই?

মৃতের নামেও স্বাস্থ্যসাথীর টাকা! দুর্নীতিতে কি জড়িত খোদ আধিকারিকরাই?

 

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৩০ হাজার কোটির দুর্নীতির অভিযোগ: নথিপত্র মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্নীতির সমস্ত তথ্য ও প্রমাণসহ ফাইল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি কোনো বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা বা তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ পক্ষের হাতে ন্যস্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, “মৃত ব্যক্তির নামে স্বাস্থ্যসাথীর বিল করা হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর দুই থেকে তিন বছর পর সেই ব্যক্তি পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—এমন অদ্ভুত ও ভুয়া বিলও বীমা সংস্থাগুলো পাস করে দিয়েছে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, দুর্নীতির এই জাল অত্যন্ত বিস্তৃত। এর সঙ্গে থার্ড পার্টি ইনস্যুরেন্স কো ম্পা নি, স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ কর্মী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এমনকি রোগীর পরিবারের সদস্যদের একাংশও জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ভুয়ো উপভোক্তা এবং ভুয়া বিলের এই কারবার দেখে আমরা এখন রীতিমতো অধৈর্য।”

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বাস্থ্যসচিবের ওপরমহল হলো মুখ্যসচিবের দপ্তর। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার এক্তিয়ার মন্ত্রীর নেই। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যসচিবের কাছে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গত ১০ বছরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সংঘটিত এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির সত্য উন্মোচন করতে মুখ্যমন্ত্রী সবরকম সহায়তা করবেন বলে আশাবাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শীঘ্রই নথিপত্র মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে এবং এরপরই নিরপেক্ষ তদন্তের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত রাঘববোয়ালদের মুখোশ খোলার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *