ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে দুই দশকের সম্পর্ক ছিন্ন, ২৫ বিধায়কের বিদ্রোহে কাঁপছে কাশ্মীর!

সরকার পতনের মুখে ওমর আবদুল্লাহ, বিদ্রোহী বিধায়কদের ১৪ দিনের আল্টিমেটাম
জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে বড়সড় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) একাংশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ২৫ জন বিদ্রোহী বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে ১৪ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে, দলটির সাংসদ রুহুল্লাহ মেহেদি বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলে ইস্তফা দেওয়ায় সরকারের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিদ্রোহের কারণ ও দাবিনামা
বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রধান অভিযোগ, বর্তমান নেতৃত্ব ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সঙ্গে আপস করেছে। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভা বাতিল ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে অপসারণ করা, নতুন স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বমূলক মন্ত্রিসভা গঠন এবং ৩৭০ ধারা ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিদ্রোহ মূলত দলের ভেতর দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার ইস্যুতে আপসহীন অবস্থানের প্রতিফলন।
এই ১৪ দিনের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগে যদি মুখ্যমন্ত্রী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তবে জম্মু-কাশ্মীরে ওমর আবদুল্লাহর সরকারের পতন কার্যত অনিবার্য হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতি উপত্যকার রাজনীতির সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- ন্যাশনাল কনফারেন্সের ২৫ জন বিধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
- সাংসদ রুহুল্লাহ মেহেদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন।
- বিদ্রোহীরা বর্তমান মন্ত্রিসভা বাতিল এবং ৩৭০ ধারা পুনরুদ্ধারে কঠোর অবস্থান গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
- ১৪ দিনের আল্টিমেটাম উপেক্ষা করলে সরকার পতনের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।