বিএসএফের গাড়ি ভাঙচুর ও রাইফেল কাড়ার চেষ্টা, ত্রিপুরায় নেপথ্যে কারা?

বিএসএফের গাড়ি ভাঙচুর ও রাইফেল কাড়ার চেষ্টা, ত্রিপুরায় নেপথ্যে কারা?

সীমান্তে বিএসএফের ওপর হামলার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, গ্রেফতার মূল অভিযুক্তরা

সিপাহীজলা জেলার কলমচৌরা থানার অন্তর্গত আশাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, একজন সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে আটক করার জের ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে উসকানি দেওয়া হয়। এই প্ররোচনায় উত্তেজিত জনতা অতর্কিতভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়। হামলায় তিন জন জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের আগরতলার ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া দুষ্কৃতীরা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং জওয়ানদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো দুসাহসিক অপচেষ্টা চালায়।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

জাতীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত জওয়ানদের ওপর এমন আক্রমণের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। তিনি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে পুলিশকে অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঝটিকা অভিযানে ৮-৯ জন মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতকদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

এই ঘটনার পর ওই সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আইন হাতে তুলে নেওয়া বা রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদানকারী কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এক ঝলকে

  • সিপাহীজলার আশাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের ওপর উত্তেজিত জনতার হামলা।
  • ইঁট-পাটকেলের আঘাতে তিন জন জওয়ান গুরুতর জখম, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর।
  • মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, ৯ জনকে গ্রেফতার।
  • সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর, পলাতকদের গ্রেফতারে চলছে তল্লাশি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *