হোটেল লিজ নিয়ে বিবাদে ৫ খুন, এনকাউন্টারে খতম মূল অভিযুক্ত!

হোটেল লিজ নিয়ে বিবাদে ৫ খুন, এনকাউন্টারে খতম মূল অভিযুক্ত!

 

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু কুখ্যাত শুটার ঘনকান্ত গগৈয়ের, এনকাউন্টার ঘিরে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিবসাগর: আসামের চাঞ্চল্যকর ‘বিলাস ইন’ হোটেল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। শিবসাগরের গৌরীসাগরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার সময় এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে।

শিবসাগরের পুলিশ সুপার পাপোরি চেতিয়া জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবরের গণহত্যা মামলায় ধৃত গগৈকে ২০২৪ সালের একটি পুরনো ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গুয়াহাটি থেকে শিবসাগরে নিয়ে আসা হচ্ছিল। রাত ৩টে ১২ মিনিট নাগাদ গৌরীসাগরে পৌঁছলে গগৈ শৌচকর্মের অছিলায় গাড়ি থেকে নামার জেদ ধরেন। গাড়ি থেকে নামামাত্রই তিনি তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকের সার্ভিস পিস্তল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় ঊর্ধ্বতন আধিকারিককে রক্ষা করতে এক পুলিশকর্মী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে গুরুতর আহত হন গগৈ। দ্রুত তাকে শিবসাগর সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, গগৈ একজন প্রশিক্ষিত শুটার ছিলেন এবং অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চালনায় দক্ষ হওয়ায় তার কাছ থেকে ঝুঁকি ছিল প্রবল। উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির ‘বিলাস ইন’ হোটেলে লিজ সংক্রান্ত বিবাদের জেরে গগৈয়ের গুলিতে হোটেলের মালিক হেলেনা ভরালি, তার ভাই ভূদেব ভরালি, ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, পুত্রবধূ রিনিকা কাশ্যপ এবং সহযোগী নারায়ণ দাস নিহত হন। এই ঘটনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে, এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক। মঙ্গলবারই গুয়াহাটির কামরূপ জেলা আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে গগৈকে যেন সূর্যাস্তের পর জেলের বাইরে নিয়ে যাওয়া না হয়। আদালতের সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কেন তাকে মাঝরাতে স্থানান্তরিত করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার সময় এনকাউন্টারে মৃত্যুর এই ঘটনা আসামের প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *