সোনার দাম কমলেও কেন নেই ক্রেতা, ধনতেরাসের মুখে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের!

সোনার দাম কমলেও কেন নেই ক্রেতা, ধনতেরাসের মুখে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের!

সোনার দামে স্বস্তি সত্ত্বেও মন্দায় শ্যামনগরের স্বর্ণশিল্প, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার ফিউচার প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় বাজারে সোনার দামে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে। ২২ ক্যারেটের ১০ গ্রাম সোনার দাম সামান্য বাড়লেও সামগ্রিকভাবে তা বেশ কিছু সময় আগের তুলনায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। অথচ উৎসবের মরসুমেও শ্যামনগরের সোনাপট্টিতে দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত স্থবিরতা। দোকানগুলোতে গয়না কেনার জন্য ক্রেতাদের যে ভিড় থাকার কথা, তা এবার কার্যত অনুপস্থিত।

ক্রেতাশূন্য দোকান ও বাজারের অস্থিরতা
ব্যবসায়ীদের মতে, ইরান-আমেরিকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরকারি নীতিগত ঘোষণার প্রভাবে সোনার বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোনার দামের এই ঘনঘন তারতম্য গ্রাহকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলেছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থিক টানাপোড়েন গয়না বিক্রিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ধনতেরাস ও উৎসবের মরসুম সত্ত্বেও শ্যামনগরের ঐতিহ্যবাহী সোনাপট্টিতে বেচাকেনা তলানিতে ঠেকেছে, যা স্থানীয় স্বর্ণশিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

অফার ও নতুন কৌশলেও ফিরছে না জৌলুস
ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যবসায়ীরা মেকিং চার্জে বিশেষ ছাড় দেওয়া এবং সাশ্রয়ী ও হালকা ওজনের গয়না তৈরির মতো নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম কমিয়েও ক্রেতাদের দোকানে ফেরানো যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বাজারের অস্থিরতা কাটাতে তাঁরা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। স্বর্ণশিল্পীদের আশা, বাজারের এই টালমাটাল অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এখন সব নজর ধনতেরাসের মূল দিনের দিকে, ব্যবসায়ীরা আশাবাদী সেই দিনটিতে বিক্রি কিছুটা হলেও বাড়বে।

এক ঝলকে

  • আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও দামের ওঠানামায় কমেছে সোনার চাহিদা।
  • দাম নাগালের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটে সাধারণ মানুষ গয়না কেনা থেকে বিরত থাকছেন।
  • বিক্রি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা মেকিং চার্জে ছাড় ও লাইট-ওয়েট গয়না বিক্রির ওপর জোর দিচ্ছেন।
  • বাজার স্বাভাবিক করতে স্বর্ণশিল্পীরা সরকারি নীতিগত সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *