তরুণ ভারতের জনসংখ্যা কি ফুরিয়ে আসছে? উদ্বেগে শীর্ষ আদালত!

নির্বাচনে ‘দুই সন্তান নীতি’ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত সুপ্রিম কোর্টের, কমছে জন্মহার নিয়ে উদ্বেগে শীর্ষ আদালত
নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল জনসংখ্যা কাঠামোর প্রেক্ষিতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ‘দুই সন্তান নীতি’র প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পিএস নরসিংহ ও বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিগত দুই দশকে দেশের জনতাত্ত্বিক চরিত্রে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার নিরিখে ২০০৩ সালের আইনি নীতিটি খতিয়ে দেখা জরুরি। মহারাষ্ট্রের এক প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত এই বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার জন্য বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
২০০৩ সালের ‘জাভেদ বনাম হরিয়ানা রাজ্য’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে দুটির বেশি সন্তান থাকা ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নীতি কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকা মোট প্রজনন হার (TFR)। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৩ সালে দেশে মহিলাদের গড় প্রজনন হার ছিল ৩.০২, যা ২০২৪ সালে নেমে দাঁড়িয়েছে ১.৯-এ। অথচ জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন হার (Replacement Rate) হওয়া উচিত ২.১। শিক্ষা ও সচেতনতার প্রসারে জন্মহার এই সীমার নিচে নেমে আসায় দীর্ঘমেয়াদী জনতাত্ত্বিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একইসঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও। উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবাদে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন প্রবীণ। সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১১ সালে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ কোটি (মোট জনসংখ্যার ৮.৪ শতাংশ), যা ২০৩৬ সালে বেড়ে ২৩ কোটিতে (১৪.৯ শতাংশ) পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুর অনুপাত ২০১১ সালের ৩০.৯ শতাংশ থেকে কমে ২০৩৬ সালে ২০.১ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণ ও কর্মক্ষম জনসংখ্যা। কিন্তু জন্মহারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা ও প্রবীণ জনসংখ্যার আধিক্য ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল কর্মীবাহিনীর তীব্র ঘাটতি তৈরি করতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।