স্পিকার পদ ছাড়ছেন মাইক জনসন, রিপাবলিকান শিবিরে চরম অস্থিরতা!

স্পিকার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন মাইক জনসন, রিপাবলিকান শিবিরে নেতৃত্বের লড়াই শুরু
ওয়াশিংটন ডিসি: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান স্পিকার মাইক জনসন নতুন কংগ্রেসে আর দায়িত্ব পালন করবেন না বলে জানিয়েছেন। গত বুধবার ঘনিষ্ঠ কর্মীদের সাথে ফোনালাপে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এনবিসি নিউজসহ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় রিপাবলিকান পার্টির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ১০ নভেম্বর দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করা হবে।
জনসনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পরপরই রিপাবলিকান পার্টির অন্দরে উত্তরসূরি হওয়ার লড়াই জমে উঠেছে। নেতৃত্বের দৌড়ে এখন পর্যন্ত দুই প্রভাবশালী নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং জিম জর্ডান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার সহকর্মীদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে তারা নিজেদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
লুইজিয়ানার প্রতিনিধি স্টিভ স্ক্যালিস বিদায়ী স্পিকার মাইক জনসনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের ফলাফলকে আশানুরূপ নয় বলে স্বীকার করলেও, প্রতিকূলতা কাটিয়ে দলকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ওহাইও’র প্রতিনিধি এবং সাবেক ‘ফ্রিডম ককাস’ প্রধান জিম জর্ডান ডেমোক্র্যাটদের মোকাবিলায় দলের নেতৃত্বকে অধিকতর সক্রিয় ও লড়াকু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থাভাজন জর্ডান বিরোধী দলে থেকেও দলকে সুসংগঠিত রাখার অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এদিকে, নির্বাচনে হারের পর রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে পরিবর্তনের আওয়াজ আরও জোরালো হয়েছে। ফ্লোরিডার প্রতিনিধি গ্রেগ স্টিউবসহ একাধিক আইনপ্রণেতা বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং দল পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতৃত্বের পরিবর্তনের ঢেউ শুধু বিরোধীদলীয় নেতার পদেই সীমাবদ্ধ নেই। রিপাবলিকানদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘হুইপ’-এর জন্য বর্তমান হুইপ টম এমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন টেক্সাসের প্রতিনিধি অগাস্ট পফ্লুগার।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে কেভিন ম্যাকার্থি অপসারিত হওয়ার পর মাইক জনসন স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর নির্বাচনের ফলাফল ও দলীয় চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো। মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।