শরৎচন্দ্র টোটা আর বন্দুকধারী আবির, সৃজিতের ফ্রেমে ফিরছে অগ্নিযুগ

শরৎচন্দ্র টোটা আর বন্দুকধারী আবির, সৃজিতের ফ্রেমে ফিরছে অগ্নিযুগ

আগামী দুর্গাপুজোর বক্স অফিস যুদ্ধে বড়সড় ধামাকা নিয়ে হাজির হচ্ছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের দাবী’ অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে তাঁর নতুন ছবি ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। সম্প্রতি এই সিনেমার একটি বিশেষ ঝলক প্রকাশ্যে এনেছেন পরিচালক, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টোটা রায়চৌধুরী, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং মিমি চক্রবর্তীর মতো তারকাদের উপস্থিতিতে এই ছবি বড় পর্দায় এক ঐতিহাসিক দ্রোহকালকে পুনরুজ্জীবিত করতে চলেছে।

লুক প্রকাশে মহাচমক

প্রকাশিত হওয়া ছোট্ট ঝলক বা প্রি-টিজারে নজর কেড়েছে অভিনেতাদের লুক। অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীকে দেখা গিয়েছে স্বয়ং কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বেশে, যেখানে পাক ধরা চুল ও ভাঙা চোয়ালে একমনে লিখতে ব্যস্ত তিনি। অন্যদিকে, অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছে উপন্যাসের কালজয়ী বিপ্লবী চরিত্র ‘সব্যসাচী’র ভূমিকায়, যাঁর হাতে রয়েছে বন্দুক। উপন্যাসের মূল ভাবধারা বজায় রেখে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।

ইতিহাস ও উপন্যাসের মেলবন্ধন

১৯২৬ সালে প্রকাশিত ‘পথের দাবী’ তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং প্রকাশের পর পরই বইটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচীকে ঘিরে সে সময় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয়েছিল তীব্র দেশপ্রেম ও উদ্দীপনা। শোনা যায়, তৎকালীন এক দাপুটে বিপ্লবীর আদলেই এই চরিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন শরৎচন্দ্র। নতুন এই চলচ্চিত্রে কেবল শরৎচন্দ্র বা সব্যসাচী নন, তৎকালীন ভারতের আরও বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি দেখা যাবে। জানা গিয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মতো মহানায়কদের চরিত্রও এই কাহিনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পর্দায় উঠে আসবে।

বক্স অফিসে সম্ভাব্য প্রভাব

বাঙালি দর্শকদের কাছে দুর্গাপুজোর সিনেমা মানেই এক বাড়তি উন্মাদনা। উৎসবের মরশুমে পিরিয়ড ড্রামা এবং দেশাত্মবোধের এই মেলবন্ধন সিনেমা হলগুলোতে দর্শকদের ঢল নামাবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা। প্রায় একশো বছর আগের নিষিদ্ধ ইতিহাসের এই টানটান উপাখ্যান একদিকে যেমন প্রবীণদের স্মৃতি উস্কে দেবে, অন্যদিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অজানা অধ্যায়কে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরবে। ফলে পুজোর বক্স অফিসে এই ছবি বাণিজ্যিক ও সমালোচক উভয় দিক থেকেই এক বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *