সরকারি খাতায় ‘মৃত’ ব্যক্তি এখনো লড়াই করছেন বেঁচে থাকার অকাট্য প্রমাণ দিতে!

সরকারি খাতায় ‘মৃত’ ব্যক্তি এখনো লড়াই করছেন বেঁচে থাকার অকাট্য প্রমাণ দিতে!

সরকারি নথির মারাত্মক ভুলের মাশুল গুনছেন মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলার এক প্রতিবন্ধী প্রৌঢ়। বাস্তব জীবনে বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকলেও সরকারি পোর্টালে তিনি এখন ‘মৃত’। বিগত ছয় মাস ধরে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের দরজায় দরজায় চক্কর কাটছেন ৫৮ বছর বয়সী কর্ণ সিং সাওয়ান। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বারবার ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত খোদ জেলা শাসকের দ্বারে হাজির হয়েছেন তিনি। অসহায় এই প্রৌঢ়ের করুণ আকুতি, “স্যর আমি বেঁচে আছি।”

এক ভুলের অন্তহীন ভোগান্তি

জানা গেছে, বছরখানেক আগে ডায়াবেটিসের তীব্র সংক্রমণের কারণে কর্ণ বাবুর একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়। বর্তমানে কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে কোনোমতে হাঁটাচলা করেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়ার পর নিয়মানুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সুবিধার আবেদন করতে যান তিনি। আর তখনই সামনে আসে এক চরম সত্য—সরকারি পোর্টালে তাঁর নাম নথিভুক্ত রয়েছে ‘মৃত’ হিসেবে। এরপর থেকেই শুরু হয় এক অন্তহীন গোলকধাঁধা। গত ছয় মাস ধরে একাধিক দপ্তরে ঘুরেও এই ভুলের কোনো সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। ৬০ বছর পার হলে তিনি যেন সরকারের ‘সম্বল যোজনা’-সহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন, সেই আশঙ্কায় এখন দিন কাটছে তাঁর।

কারণ ও প্রশাসনিক আশ্বাস

এই চরম গাফিলতির নেপথ্যে মূলত পোর্টালের কারিগরি ত্রুটি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের অসতর্কতাকে দায়ী করা হচ্ছে। সম্প্রতি নিরুপায় হয়ে কর্ণ তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জেলা শাসকের দপ্তরে হাজির হন এবং নিজের বেঁচে থাকার সমস্ত প্রমাণ ও নথিপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই টনক নড়েছে প্রশাসনের। মধ্যপ্রদেশের শ্রম দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক মনীশ চৌরাসিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা ওটিপি (OTP) যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত এই সরকারি নথি সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *